যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে গিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

মারধর এবং আটকে রেখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. মহসিনের সংবাদ সম্মেলন। আজ বৃহস্পতিবার বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে
ছবি: প্রথম আলো

বরগুনায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যকে মারধর করে তুলে নিয়ে গিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের আদনান ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন সাবেক সেনাসদস্য মো. মহিসন।

আজ বৃহস্পতিবার বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমানের বাসায় গত সোমবার দিবাগত রাতে এই স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ মহসিনের। অভিযোগ অস্বীকার করে যুবলীগ নেতা জুবায়ের আদনান বলছেন, ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে পাওনা আদায়ে লিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

মো. মহসিন তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত সোমারার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বরইতলা ফেরিতে ওঠেন। ওই দিন বামনায় সম্মেলন থাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নেতা–কর্মীদের নিয়ে ওই ফেরি পার হচ্ছিলেন। ফেরিতে দেখতে পেয়ে ১০-১৫ জন তাঁকে ও তাঁর ভাই আল-আমিনকে প্রচণ্ড মারধর করেন। মারধরে তিনি জ্ঞান হারান। পরে রাত আড়াইটার দিকে জ্ঞান ফিরলে আল–আমিন তাঁকে জানান, তাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমানের বাসায় আছেন। কিছুক্ষণ পর আরও অনেকে সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে জোর করে সাদা স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের আদনানের সঙ্গে মহসিনের ড্রেজার নিয়ে ঝামেলা ছিল। সেটি মীমাংসায় তাঁরা বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মহসিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেনা পরিশোধ ও ভালোভাবে ড্রেজার ব্যবসা চালানোর জন্য ৫০ শতাংশ শেয়ারে তিনি জুবায়ের আদনানের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। পরে তাঁরা ড্রেজার তালতলী নিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরে দুই মাসের মতো তালতলীতে ড্রেজার ছিল। তারপর একদিন রাতে তাঁকে না জানিয়ে ড্রেজার তালতলী নিয়ে আসেন জুবায়েরের লোকজন। যে শর্তে তাঁর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, তার কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করেননি। প্রায় ১৪ মাস পর খোঁজাখুঁজি করে লোক মারফত জানতে পারেন ড্রেজারটি মঠবাড়িয়ায় এবং ড্রেজারের নাম পরিবর্তন করে পরিচালিত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নেতা মশিউর রহমানের বাসায় বৈঠক করে লিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের আদনান। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি  প্রথম আলোকে বলেন, মহসিনের সঙ্গে তাঁর শেয়ারে ড্রেজার ব্যবস্থার চুক্তি হয়। সে অনুসারে তিনি ৬ লাখ টাকার পাইপ কিনে দেন। নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর আর তাঁর কোনো খবর নেই। অনেক চেষ্টার পর তাঁকে ধরে নিয়ে আসেন। মারধরের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই।