ভোটের আগের রাতে সভাপতি প্রার্থীর বাড়িতে পুলিশ, সরে যেতে বলার অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী মোস্তাক আলমের (টুলু) বাড়িতে ভোটের আগের দিন গভীর রাতে পুলিশ যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পুলিশ নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে যেতে তাঁর স্ত্রীকে অনুরোধ করে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, নির্বাচনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, খোঁজখবর নিতে তারা সেখানে গিয়েছিল।
আইনজীবী মোস্তাক আলম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিনিসহ দলটির সাতজন স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে আছেন। আজ বৃহস্পতিবার সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত।
আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৫ মার্চ তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ সারওয়ার হোসেন। ৩০ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ১২টি পদের বিপরীতে ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। পরে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরা ছাড়াও আওয়ামী লীগের মোস্তাক আলমসহ দলটির সাতজন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মোস্তাক আলম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বুধবার গভীর রাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাঁর বাড়িতে যান। তখন তিনি বাড়িতে না থাকলেও তাঁর স্ত্রী ও ছেলে বাসায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাপ দিতেই আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’
মোস্তাকের ছেলে নিমগ্ন তানভির অর্পণ বলেন, ‘রাতে নানাবাড়ি থেকে এসে দেখি, পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। আমার পরিচয় জানার পর তারা বাবাকে ডেকে দিতে বলে গেট খুলতে বলেন। একপর্যায়ে মা এসে গেট খুলে দেন। তখন তাঁরা আমাকে বলেন, “তোমার বাবার সঙ্গে মিটিং আছে।” তখন আমি তাঁদের কাছে জানতে চাই, এত রাতে কীসের মিটিং? তখন তাঁরা বলেন, “কালকে ভোট, এ নিয়ে একটু কথা আছে।” যাওয়ার আগে এক পুলিশ কর্মকর্তা মাকে বলেন, “ভাবি ওপর থেকে নির্দেশনা আসছে, ভাইকে বলবেন,এ সময় নির্বাচন করার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি যেন সবাইকে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান।” তবে পুলিশ আমাদের সঙ্গে কোনো অশোভন আচরণ করেনি।’ অর্পণের দাবি, রাত চারটার দিকেও পুলিশ তাঁদের বাড়ির সামনে ঘোরাঘুরি করেছে।
জানতে চাইলে জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন প্রার্থীর বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার কথা শুনেছি। কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশ পাঠিয়ে থাকে, তা ঠিক হয়নি। আবার এমনও হতে পারে, ভোটারদের সহানুভূতি পেতে কেউ বিষয়টি প্রচার করছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘ভোটে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে আমি সেখানে গিয়েছিলাম।’ গভীর রাতে কোনো প্রার্থীর বাড়িতে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।