২৫ বছর ধরে জুতা সেলাই–পলিশ করে যাচ্ছেন বিন্দু ঋষি
বিন্দু ঋষি (৪৭) সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় জুতা সেলাই ও পলিশের কাজ করেন। ২৫ বছর ধরে তিনি এ পেশায় আছেন। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জের গোসাইনগর এলাকায়। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর পরিবার। স্ত্রী–সন্তানেরা বাড়িতে থাকেন। সিলেট নগরে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তিনি থাকেন একা।
বিন্দু ঋষি বলেন, ‘তিন টাকা দিয়ে জুতা পলিশের কাজ শুরু করেছিলাম। এখন পলিশ করতে ৩০ টাকা নিই। আগে শ টাকা আয় করলেও দিব্যি সংসার ভালো চলত, এখন সংসারের খরচ হাজার টাকায়ও কুলোয় না।’ তিনি বলেন, ২৫ বছর আগে সিলেটে এসে সহজ পেশা হিসেবে জুতা সেলাই ও পলিশের কাজ বেছে নেন। সে সময় বছরে তিন থেকে চারবার বাড়ি গেলেও এখন আর আগের মতো বাড়ি যেতে পারেন না। বাড়িতে গেলেই আয় বন্ধ হয়ে যাবে, সেই চিন্তায় এখন আর বাড়িতে যাওয়া হয় না।
সম্প্রতি এক সকালে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার মোড়ে বসে ছিলেন বিন্দু ঋষি। আলাপে আলাপে তিনি বলেন, ‘সকালে মোড়ে বসি। দুপুরের দিকে মোড়ের পাশের একটি বিপণিবিতানের সামনে গিয়ে বসি। থাকি রাত ৮-৯টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। মাঝেসাজে হাজার টাকাও আয় হয়।’ তবে দিনে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হয়ে যায় খাওয়াদাওয়াসহ অন্যান্য কাজে।
বিন্দু ঋষি বলেন, আগে পূজার অপেক্ষায় থাকতেন। এখন মনে হয় উৎসবের দিন না এলেই ভালো হতো! পূজা উপলক্ষে সংসারের খরচের পাশাপাশি পরিবারের লোকজনের জন্য নতুন কাপড় কিনতে বের হয়ে যায় অনেক টাকা। আয় তো বাড়ে না, ব্যয়ের চিন্তায় তাই অস্থির থাকতে হয়। একসময় পূজায় চুক্তিতে ঢাকঢোল বাজাতেন, বাড়তি কিছু আয় হতো। এখন আর শরীরে কুলায় না।
আর কিছুদিন কাজ করে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানালেন বিন্দু ঋষি। বলেন, ‘একা থাকতে আর ভালো লাগছে না। বয়স হয়েছে। এই কাজ ছেড়ে ভাবছি বাড়ি গিয়ে মানুষের খেত–খামার দেখব। যে আয় হবে, তা দিয়ে দিন চালিয়ে নেব। একটু কষ্ট হলেও বাড়িতে তো থাকতে পারব! এখন আর জুতা সেলাই–পলিশ করে দিন চালানো যাবে না। আগে মানুষ বাইরে বের হলে জুতা পলিশ করাতেন। মজুরি কম হলেও জিনিসের দাম খুব চড়া না থাকায় চলে যেত। এখন আর সে অবস্থা নেই। আর শৌখিন লোকজন নিজেরাই দামি কালি দিয়ে পলিশ করে নেন। বাইরে পলিশ করান না। এতেও তো আমাদের আয় কমছে!’