দুই মাস নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে নেমে খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা

দুই মাস পর জেলেরা জাল টানছেন মেঘনা নদীতে। চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য আড়ত ইলিশশূন্য। নদীপারে শ্রমিকেরা অপেক্ষায়, কখন আসবে মাছ। শুক্রবার সকালেছবি: প্রথম আলো

চাঁদপুরে দুই মাস নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে খালি হাতে ফিরছেন অধিকাংশ জেলে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম মৎস্য অবতরণকেন্দ্র চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ফাঁকা দেখা গেছে। পাশে ডাকাতিয়া নদীর পারে মাছঘাটের মৎস্য শ্রমিকদের মাছের জন্য অপেক্ষমাণ দেখা গেছে।

দুই মাস নিষেধাজ্ঞার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে নদীতে মাছ ধরা শুরু করেন জেলেরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জেলেরা সেভাবে মাছ ধরতে পারেননি। আজ শুক্রবার সকালে দু-চারটি জেলেনৌকা নদী থেকে এলেও খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা। আজ সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সরেজমিন বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মাছঘাটের শ্রমিকেরা বলছেন, নদীতে মাছ নেই। অধিকাংশ জেলে খালি নৌকা নিয়ে ফিরে আসছেন। এ জন্য তাঁরা ঘাটে অলস সময় পার করছেন আর অপেক্ষায় আছেন কখন ঘাটে মাছ আসবে।

স্থানীয় মৎস্য বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছর এ সময় ইলিশসহ অন্যান্য নদীর মাছে ভরপুর থাকলেও চাঁদপুরের এই মৎস্য আড়তে আজ দুই থেকে চারটি ইলিশ আর নদীর অল্প কিছু অন্যান্য মাছ ছাড়া কিছুই ওঠেনি।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মৎস্য আড়ত মাছশূন্য। জেলেরা নদীতে নেমেও তেমন মাছ পাননি। শুক্রবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

চাঁদপুর মাছঘাটে আজ এক কেজির ইলিশ ৩ হাজার ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার টাকা কেজি। আড়তদার সাগর হোসেন বলেন, মাত্র দুই মাসের অভিযান শেষ হয়েছে। তার ওপর আবহাওয়া ভালো নেই। এ কারণে অনেক জেলে নদীতে নামতে পারছেন না। যাঁরা নেমেছেন, তাঁরা অধিকাংশই খালি হাতে ফিরছেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, দুই মাস নিষেধাজ্ঞার পর গতকাল রাত থেকে নদীতে মাছ ধরা শুরু করেছেন জেলেরা; কিন্তু আবহাওয়া ভালো নেই। এ জন্য অনেক জেলে নদীতে এখনো নামেননি।