আবর্জনার কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বারখলা এলাকায় জৈন্তার খালের গভীরতা কমে গেছে। ১১ মের ছবি
প্রথম আলো

সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার বারখলা এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে জৈন্তারখাল। খালের পানি গিয়ে নেমেছে কুশিয়ারা নদীতে। খালটি পড়েছে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে। সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে খালের দুই পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলেও আবর্জনা জমে গভীরতা কমেছে খালটির। গত বছরের বন্যায় খালের গভীরতা কম থাকায় পানির ধারণক্ষমতা কমে পানি উপচে পড়ে এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল।

এদিকে ওয়ার্ডের বারখলা, খোজারখলা ও মুসারগাঁও এলাকায় সড়ক ও নর্দমার সংস্কারকাজ হলেও কিছু অংশের কাজ শেষ না করেই ফেলে রাখা হয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে। ওয়ার্ডের এলাকাগুলো হলো খোজারখলা, গাংগু, বারখলা, ভার্থখলা (একাংশ), কায়স্তরায়ইল, মোমিনখলা, মুসারগাঁও, কাজীরখলা, দাউদপুর।

ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবীর সড়ক হয়ে বারখলা এলাকায় প্রবেশমুখে ডাকঘরের সামনে নর্দমার (ড্রেন) কাজ অসমাপ্ত ফেলে রাখা হয়েছে। প্রবেশমুখে ইট, সুরকি ফেলে রাখা হয়েছে। মুসারগাঁও এলাকায় নর্দমার সংস্কারকাজ শুরু হলেও সেখানের প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি।

স্থানীয় লোকজন বলেন, ওয়ার্ডের বঙ্গবীর সড়কটি নিচু হওয়ায় ভারী বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে। বারখলা এলাকার হুমায়ুন কবির বলেন, বেশ কিছু এলাকায় উন্নয়নকাজ শুরু হলেও সেগুলো শেষ করা হয়নি। সামনে টানা ভারী বৃষ্টি হলে এসব কাজের কারণে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ হবে। জৈন্তারখালের গাইডওয়াল নির্মাণ করা হলেও খনন করা হয়নি। গাইডওয়াল নির্মাণের সময় অপ্রয়োজনীয় মালামাল ফেলা হয়েছে ওই খালেই।

ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম বলেন, টানা দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছেন। বর্তমানে কিছু কাজ বাকি। এর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও তফসিল ঘোষণার পর সেগুলোর কাজ আর করা হয়নি। বারখলা এলাকার প্রবেশমুখ ডাকঘরের সামনের ভাঙা অংশটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় সেখানকার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া বারখলা এলাকার কিছু কাজ বাকি। আদালত স্থানীয় এক ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন।

জলাবদ্ধতার ব্যাপারে তাকবির ইসলাম বলেন, ওয়ার্ডের অভ্যন্তরে থাকা দুটি খাল দিয়ে আশপাশের এলাকার পানি নামে। ফলে পানি নামতে সময় লাগে। এ ছাড়া ওয়ার্ডের বাইরে হাওরের যেসব স্থান দিয়ে পানি নামে সেখানে পথ বন্ধ থাকায় পানি নামতে সমস্যা হয়। জৈন্তারখাল খননের বিষয়টি সিটি করপোরেশনে উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বাবদ বড় কোনো বাজেট না থাকায় সেটি করা সম্ভব হয়নি। এরপরও ভবিষ্যতে খাল খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাকবির ইসলাম, মোহাম্মদ তৌফিক বকস

জুয়া খেলায় আসক্তি বাড়ছে

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাটি নগরের প্রবেশমুখ। ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস সম্প্রতি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সভায় বাসিন্দারা প্রধান সমস্যা হিসেবে অনলাইনে জুয়া খেলার বিষয়টির কথা বলেছেন। জুয়া খেলে অনেকে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন এবং বহিরাগতরা গভীর রাত পর্যন্ত এলাকায় আসা-যাওয়া করছে। ৫ মে রাতে কদমতলীর একটি বিদ্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা হয়।

সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সুরমা এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাগুলো হলো ভার্থখলা (আংশিক), ঝালোপাড়া, গাংগু (রেললাইনের উত্তর), সাধুরবাজার, কদমতলী।

ওয়ার্ডটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কদমতলী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে এ কাজ চলছে, কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। কদমতলী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে খালি অংশে আবর্জনার স্তূপ জমে ভাগাড়ে রূপ নিয়েছে।

ভার্থখলা এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ বলেন, এলাকায় মশার উপদ্রব রয়েছে। কদমতলী ও ভার্থখলা এলাকায় প্রতিবছরই ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যায়। এলাকার বাসিন্দারা ডেঙ্গু আতঙ্কে থাকেন। এর একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

পুরোনো রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, এলাকায় রেলওয়ে স্টেশন, একটি বিদ্যালয় থাকায় মানুষের যাতায়াত বেশি। কদমতলী হয়ে পুরোনো রেলওয়ে স্টেশনের সড়কটি নিচু। বৃষ্টি হলে সড়কটিতে জলাবদ্ধতা হয়। মূল সড়ক থেকে গলির সড়কটি উঁচু করা হলে এ সমস্যা দূর হতো।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস বলেন, এলাকায় অনলাইনে জুয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তিনি চেষ্টা করছেন সমস্যাটি দূর করতে। ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসসহ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে একাধিকবার জরিমানাও করা হয়েছে। এরপরও কিছু ব্যবসায়ী মালামাল বাইরে রেখে দেন। ফলে এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। বাসস্ট্যান্ড এলাকার আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।