উপজেলার আমাইকোলা থেকে সোনাতলা পর্যন্ত চারটি বিলের অন্তত পাঁচ হাজার একর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। আমাইকোলা, ভিটাপাড়া, পাটগাড়ি, সোনাতলা, সরিষা, হাঁড়িয়া, ফেচুয়ানসহ অন্তত ২০ গ্রামের কৃষক সেখানে আমনের আবাদ করেছেন। অন্যদিকে উপজেলার অন্যতম বড় গ্যারকার বিলেও পাঁচ থেকে সাত হাজার একর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। গাঙ্গহাটি, মাধপুর, তৈলকপি, রঘুনাথপুর, আড়িয়াডাঙ্গী, কাজিপুর, ইসলামপুর, চকবায়সা, কুমিরগাড়ি, বামনডাঙ্গা, পদ্মবিলসহ ১৩টি মৌজার জমি নিয়ে এ গ্যারকার বিল। এ বিলের অনেক জমিও কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। 

ভিটাপাড়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করছিল্যাম। কচুরিপানা সব ধান খায়া ফালাইছে। ঘন কচুরিপানায় জমির কাছে যাওয়ারই উপায় নাই।’

গ্যারকার বিল এলাকার আমনচাষি চরপাড়া গ্রামের কৃষকেরা বলেন, ছয় থেকে সাত বছর ধরে তাঁরা কচুরিপানার কারণে ঠিকভাবে আমন ধান ঘরে তুলতে পারেন না। তবে এবারের মতো এত কচুরিপানা আর কখনো দেখা যায়নি। বর্ষা ও আমন মৌসুম শেষে জমিতে কচুরিপানা পড়ে থাকায় পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে সেই জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, খেসারি, কালাই, জব, গম, ছোলাসহ বিভিন্ন রবিশস্যও ফলাতে পারেন না। জমিতে পড়ে থাকা কচুরিপানা অপসারণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল বলে অনেক কৃষকই এসব জমি অনাবাদি অবস্থায় ফেলে রেখেছেন। অথচ একসময় এসব জমিতে প্রচুর ফসল ফলত। 

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, কচুরিপানার কারণে কিছু এলাকার বোনা আমনের ক্ষতি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ধানের শিষ বের হয়ে গেলে কচুরিপানায় কোনো ক্ষতি হবে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সহায়তা নিয়ে কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কচুরিপানা পুরোপুরি নির্মূলের উদ্যোগ নিতে হবে।