স্যুটকেসে নারীর লাশ : বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় বাসায় এনে হত্যা

লাশ উদ্ধারের সময় উৎসুক জনতার ভিড়। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবায় স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তিনজন গতকাল রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবাবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার। প্রেমিকের বাসায় গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাঁকে অচেতন করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ দ্বিখণ্ডিত করে স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

নিহত ডলি আক্তার (৩০) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুরের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বাঘের বাজার এলাকার একটি গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

গ্রেপ্তার মিশন ইসলামের (২২) সঙ্গে ডলি আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের  মাসকুর আলমের ছেলে। তিনি মাকে নিয়ে গাজীপুর নগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। ওই ঘটনায় মিশনের মা বানু আক্তার (৪৩) ও বন্ধু মিজানুর রহমান ওরফে মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে গাজীপুর নগরের রাজদিঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানান সংস্থাটির পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের বাসায় যান ডলি। সেখানে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে  মিশন কৌশলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি ডোবায় স্যুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে। স্যুটকেস ও বস্তার ভেতর থেকে নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পিবিআই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তিন আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে মিশনের সঙ্গে ডলির পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের বাসায় যান ডলি। সেখানে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে  মিশন কৌশলে তাঁকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখেন মিশন। পরদিন সকালে তাঁর মা বানু আক্তার লাশটি দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনায় তিনি যুক্ত হন। স্যুটকেসে লাশটি না ধরায় কোমর থেকে লাশটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়। এরপর মিশনের বন্ধু মিল্টনকে ডেকে অটোরিকশায় করে স্যুটকেস ও বস্তা ভবানীপুরের একটি সেতুতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সেগুলো ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

হত্যার ঘটনায় গত শনিবার নিহত ডলির ভাই মো. সোহেল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। পরে পিবিআই অভিযান চালিয়ে মিশন, তাঁর মা বানু ও মিল্টনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, ডলির পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্লুলেস (সূত্রবিহীন) এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।