স্রোতের তোড়ে নদীতে ভেঙে পড়ল সেতু, সাঁতরে তীরে উঠলেন শিশুসহ তিনজন
টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের তোড়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সেতু পার হচ্ছিলেন শিশুসহ তিনজন। তাঁরাও সেতুর সঙ্গে নদীতে পড়ে যান। অবশ্য সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুটি উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর ছিল। রাত থেকে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সকাল থেকেই সেতুটি কিছুটা হেলে ছিল। সেতুটির অধিকাংশ অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। একপর্যায়ে স্রোতের তোড়ে সেতুটি নদীতে ভেঙে পড়ে।
সেতুটির পাশেই বাড়ি জমশেদ আলীর। তিনি বলেন, ঘটনার সময় শিশুসহ তিনজন সেতুটি পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ সেতুটি ভেঙে গেলে তাঁরাও নদীর স্রোতে পড়ে যান। পরে সাঁতার কেটে নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
কয়েক বছর আগে নির্মিত বেইলি সেতুটি বেশ বড় ছিল। সেতু ভেঙে পড়ার সময় তিনজন নদীতে পড়ে গেলেও তাঁরা নিরাপদে তীরে ফিরতে পেরেছেন। নদীর পানি কমে গেলে সেতুটি সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।আবদুল মালেক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নালিতাবাড়ী
সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ আলীর বাজার, রানীগাঁও, চেল্লাখালী বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন। এ পথ ব্যবহার করে কৃষিপণ্য স্থানীয় বাজারে নিয়ে নেওয়া হতো। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ পথ ঘুরে তাঁদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মো. আমানউল্লাহ বলেন, সারা রাত বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চেল্লাখালী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। সকালে থেকেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরে দুপুরে পানির তীব্র স্রোতের তোড়ে পুরো সেতুটি এখন ভেঙে পড়েছে। এতে দুই পাড়ের মানুষের চলাচলে কষ্ট বেড়ে গেল। ঢলের পানি কমে গেলে সেতুটি দ্রুত সংস্কার করা হোক।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া, দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য চেল্লাখালী নদীর ওপর ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের টিআর/ কাবিখা কর্মসূচির অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হয়।
সেতু ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জেনেছেন উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, কয়েক বছর আগে নির্মিত বেইলি সেতুটি বেশ বড় ছিল। সেতু ভেঙে পড়ার সময় তিনজন নদীতে পড়ে গেলেও তাঁরা নিরাপদে তীরে ফিরতে পেরেছেন। নদীর পানি কমে গেলে সেতুটি সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।