অনশনকারী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, আবেদনকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে উপজেলা, জেলা, মহানগরে যাচাই–বাছাই কমিটি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ও বেসামরিক গেজেট যাচাই–বাছাই নির্দেশিকা-২০২০ অনুসারে ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১০৪ জন ভাতাপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার তথ্য যাচাই–বাছাই করে উপজেলা কমিটি। ২০২১ সালে ওই কমিটির যাচাই–বাছাইয়ে গেজেটভুক্ত ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়েন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি শোনার পর তাঁদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে বলেছেন ইউএনও।

বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিয়ার রহমান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা যাচাই–বাছাই কমিটি অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে ভুয়া লোকদের তালিকাভুক্ত করেছে। আমাদের ভারতে ট্রেনিং ও অস্ত্র জমা দেওয়ার সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ কমিটি দিয়ে ওই তালিকা পুনরায় যাচাই–বাছাই করার দাবি করছি।’

বাদ পড়া আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক বলেন, ‘যাচাই–বাছাই কমিটি অবৈধভাবে আমাদের বাদ দিয়েছে। আমি শুরু থেকে ভাতা পেয়ে আসছি। ভাতা বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে আমরা খুবই অসহায় অবস্থায় আছি।’

ইউএনও সীমা রানী ধর বলেন, তিনি বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি শোনার পর তাঁদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর আশ্বাস পেয়ে বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনশন ভেঙেছেন। ইউএনও বলেন, ‘বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ২০২১ সালে। তখন আমি এ উপজেলায় কর্মরত ছিলাম না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন