ফরিদপুরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত অর্ধশতাধিক আবেদনকারী এ অভিযোগ তুলেছেন।
ওই আবেদনকারীদের অভিযোগ, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরকান্দা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহীন মুন্সী।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণকারী আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে প্রভাবশালীদের সুপারিশ এবং অর্থ লেনদেনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আবেদনকারী ডিলারশিপ পাননি। এদিকে নিজস্ব গুদাম না থাকা এবং ভাড়া করা ঘর ব্যবহারকারী কয়েকজনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, উপজেলার কাইচাইল, ডাঙ্গী, লস্করদিয়া, রামনগর ও ফুলসুতি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের যোগ্যতা, গুদামের মালিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা।
আবেদনকারীদের দাবি, সরকারি শর্ত পূরণ করে আবেদন করলেও তাঁদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এ কারণে নিয়োগে অনুসরণ করা মানদণ্ড, যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন এবং প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবি জানান তাঁরা।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় যাঁদের যোগ্য মনে করেছে, তাঁদের নিয়োগ দিয়েছে।’
বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘নীতিমালায় কোথাও বলা নেই যে বিএনপির লোকদেরই নিয়োগ দিতে হবে। বলা হচ্ছে, ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জানাক।’
অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাঁরা যেহেতু টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন, নিশ্চয়ই তাঁদের হাতে এ ব্যাপারে তথ্য রয়েছে। তাহলে তথ্য-প্রমাণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করছেন না কেন?’
অভিযোগের বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরা হয়তো না বুঝে করছেন। কেননা আমি যতটুকু শুনেছি, সারের ডিলার হিসেবে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের ৯৯ শতাংশ বিএনপির লোক।’
তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলীমুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা যে অভিযোগ করেছেন, তার মধ্যে সত্যতা আছে। একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপির নেতা ও কর্মীর সব যোগ্যতা থাকতেও তাঁকে ডিলারশিপ না দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো সদস্যকে নিলে ক্ষোভ তো হবেই। এখানেও তাই হয়েছে।’