সোমবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় এসআই শাহাদাত হোসেন যে মামলা করেছেন, সেখানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রাসেলসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করা হয়েছে।

এই যে গায়েবি মামলা হয় নিরীহ মানুষের নামে, এইটার প্রতিকার হওয়া উচিত।
মোক্তার হোসেন, জাপানপ্রবাসী ইসহাকের বাবা

জাপানপ্রবাসী ইসহাক ইসলাম নারায়ণগঞ্জ সদরের ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার মোক্তার হোসেনের ছেলে। ইসহাকের মামা জুয়েল আরমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাগনে গত ২১ মার্চ থেকে জাপানে উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দেশে নেই, তিনি কীভাবে দেশে গাড়ি ভাঙচুর ও সড়কে অগ্নিসংযোগ করেন? বিষয়টি অবাক করার মতো।

ইসহাকের বাবা মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই যে গায়েবি মামলা হয় নিরীহ মানুষের নামে, এইটার প্রতিকার হওয়া উচিত।’

প্রবাসে থাকা ছাত্রদল নেতা ইসহাক ইসলামের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা হওয়ার বিষয়টি ফোন করে জানিয়েছেন তাঁর বাবা। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পাওয়ার কয়েক দিন পর ভিসা পাওয়ায় তিনি জাপান চলে আসেন। প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনার জন্য তিনি বর্তমানে জাপানে কোবে ওয়ার্ল্ড একাডেমিতে জাপানি ভাষার ওপর কোর্স করছেন। তিনি বর্তমানে জাপানের কোবের চু কোবে হিউগো শহরে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেশে নেই, আমি কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটালাম? দেশে থাকলে তো আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যেত।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ নভেম্বর বেলা দুইটার দিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা জাকির খানের হাজিরার সময় তাঁর মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আদালতপাড়ার সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে লাঠিসোঁটা-রড নিয়ে সমবেত হন। সেখানে তাঁরা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, যানবাহন ও রাষ্ট্রায়ত্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংগঠনের উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। ওই মামলায় আলামত হিসেবে চারটি বিস্ফোরিত ককটেল, বাঁশের ২০টি লাঠি, ১০টি রড, টায়ার ও ভাঙা গ্লাস উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের মামলায় জাপানপ্রবাসী শিক্ষার্থীকে আসামি করায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইসহাক আট মাস ধরে জাপানে আছেন। তিনি জাপানে পড়াশোনার জন্য গিয়েছেন। পুলিশ গায়েবি ও কাল্পনিক মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামি করছে, প্রবাসীরাও তাদের মামলা থেকে বাদ পড়ছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে সুদক্ষ নয়, তাদের মধ্যে যে শৃঙ্খলা নেই, তারা রাষ্ট্রের নয়, একটি দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছে, এটাই তার প্রমাণ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, এজাহারে থাকা এই ব্যক্তি সেই ব্যক্তি (ইসহাক ইসলাম) কি না, তা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের পর বলা যাবে, এই ব্যক্তি, ওই ব্যক্তি কি না।