‘আপনাগো কম্বলডা পাইয়া উপকার অইলো’

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলী বাজার এলাকায় দুই শতাধিক মানুষের মাঝে কম্বল দেওয়া হয়। আজ শনিবারছবি: প্রথম আলো

প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন বায়লা বেগমের (৬০)। এর দুই বছর পর তিনি অসুস্থতার কারণে বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে কোনো কাজ করতে পারেন না। দিনমজুর ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। তাঁদের নিজেদের সংসার চালানোতেই কষ্ট হয়। অন্যের সহযোগিতায় খেয়েপরে বেঁচে আছেন বিধবা ওই নারী। এই শীতে কম্বল কেনা তাঁর জন্য কিছুটা অসম্ভব। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামে।

আজ শনিবার প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে কম্বল পেয়ে আনন্দিত বায়লা বেগম বলেন, ‘শীতে কি যে কষ্ট করছি। স্বামী নাই, কামকাইজ কইরবার পারি না। আপনাগো কম্বলডা পাইয়া উপকার অইলো করল্যা তোমরা। রাইতে কমাবল গায় দিয়্যা এহন ঘুমাইতে পারমু।’

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আমতলী বাজার এলাকায় দুই শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ এবং মাদ্রাসার শিশুদের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়। সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সৌজন্যে এই শীতবস্ত্র বিতরণে সহযোগিতা করেন প্রথম আলো মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সদস্যরা।

দৌলতপুর উপজেলাটি নদীভাঙনকবলিত এলাকা। যমুনা নদীর ভাঙনে বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারি, জিয়নপুর ইউনিয়নের অনেকাংশ বিলীন হয়ে গেছে। অনেকের বসতবাড়ি হারিয়ে গেছে এবং তাঁরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। দিনমজুর চরাঞ্চলের এসব মানুষ নাগরিক সেবা থেকেও বঞ্চিত। উপজেলাটির জিয়নপুর ইউনিয়নের বৈন্যা, ছনপাড়া, আমতলী, লাউতারা এবং বড় লাউতারা গ্রামের হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষ এবং স্থানীয় আমতলী দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিশুদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে শীতার্ত মানুষের তালিকা করা হয়। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমতলী বাজারে জড়ো হন তাঁরা। লাঠিতে ভর করেও এসেছেন কয়েকজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা। দুপুর ১২টার দিকে নারী-পুরুষকে পৃথকভাবে লাইনে দাঁড় করিয়ে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন আমতলী দারুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ নূরনবী, মাওলানা জাহিদুল ইসলাম, রেজাউল করিম, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আবু জাফর শিকদার, প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন, প্রথম আলো মানিকগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি চাঁন মিয়া।

কম্বল পেয়ে খুশি বড় লাউতারা গ্রামের বিধবা শান্তি বেগম (৬২) বলেন, ‘এইবার শীত বেশি। বাতাস ছাড়লে শীত আরও বাড়ে, তহন হাত-পা কোঁকড়ায়ে যায়। শীতের মধ্যে কম্বলডা পাইয়া খুব উপকার হইলো।’

লাঠিতে ভর দিয়ে কম্বল নিতে এসেছিলেন আমতলী গ্রামের সিরাজুল ইসলাম (৬৫)। কম্বল পেয়ে বাড়ি ফেরার সময় উচ্ছ্বাস দেখা যায় তাঁর চোখেমুখে। কম্বল পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাগো মতো অসহায় মানুষের খোঁজকবর কেউ নিতে চায় না। আপনারা আমাগো কথা ভেবেছেন, কম্বল দিছেন। এই ঠান্ডাত কম্বলডা খুবই কাজে দিব।’

রানু বালা রাজবংশীর (৬৪) স্বামী মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। সন্তানদের অভাব-অনটনের সংসারে কোনোরকমে জীবন চলছে তাঁর। কম্বল পেয়ে আনন্দিত রানু বালা বলেন, ‘নদীতে পানি থাকে না। যেইহানে পানি আছে সেইহানে মাছো পাওন যায় না। ছাওয়ালরা সারা দিন জাল বাইয়া যা আয় করে তাতে সংসার চলে না। একটা কম্বলও কোথাও থেকে কেউ দ্যায় নাই। আপনারা আমাগো খোঁজ নিছেন, কম্বলডা দিছেন।’

শীতার্তদের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসুন

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।