জলাশয়ে ভাসমান বর্জ্য সংগ্রহ করবে যন্ত্র। নৌযান পার হওয়ার সময় হাইড্রলিক প্রযুক্তিতে ওপরে উঠবে সেতুর পাটাতন। ব্যবহৃত চা-পাতা, হলুদ ও বিটরুট থেকে তৈরি হবে কাপড়ের রং। কুমিল্লায় আয়োজিত তিন দিনের কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলায় শিক্ষার্থীদের তৈরি এমন নানা প্রকল্প প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে নগরের টাউন হল মাঠে মেলা ঘুরে এসব প্রকল্প দেখা যায়। ‘কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’-এ ধারণাকে সামনে রেখে ২ থেকে ৪ অক্টোবর এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে কুমিল্লা জেলার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ২৫টি স্টলে শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প, উদ্ভাবনী মডেল ও ব্যবহারিক কাজ প্রদর্শন করা হচ্ছে।
আলহাজ্ব আয়শা খাতুন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের স্টলে দেখা যায় জলাশয়ে ভাসমান বর্জ্য অপসারণের একটি প্রকল্প। শিক্ষার্থীদের তৈরি এ প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্র, নদী, খাল, বিলসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ভাসমান বর্জ্য সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংগ্রহ করা বর্জ্য একাধিক ধাপে ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে আলাদা হয়ে নির্দিষ্ট পাত্রে জমা হবে। শিক্ষার্থীদের মতে, এর মাধ্যমে জলাশয়ের ভাসমান বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি পানিদূষণ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কুমিল্লা প্রাইভেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করছেন হাইড্রলিক ব্রিজের একটি মডেল। এ মডেলের ধারণা হলো, সেতুর পাটাতন ওপরে উঠে নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরি করে দেবে।
সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছেন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে সুতি কাপড়ের রং। ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া চা-পাতা, হলুদ ও বিটরুটের মতো সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে তাঁরা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রং তৈরি করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব প্রাকৃতিক রং কাপড়ে প্রয়োগের পর প্রচলিত রঙের মতোই দীর্ঘস্থায়ী হয়। পরিবেশবান্ধব রং তৈরির এ উদ্যোগ দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করেছে।
এর আগে আজ সকাল ১০টায় টাউন হল মাঠে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, মেলার স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প দেখে তিনি অভিভূত। কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী শিক্ষার দিকে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) সুলতানা রাজিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকেরা বলেন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দক্ষ কারিগরি জনশক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার সম্ভাবনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের প্রকল্পভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় উৎসাহিত করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য। সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক, মনোটেকনিক, ভোকেশনাল, বিএম, শর্ট কোর্সসহ বিভিন্ন ধরনের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে এ আয়োজন করা হয়েছে।
মেলার পৃষ্ঠপোষক কুমিল্লা জেলা প্রশাসন এবং কুমিল্লায় অবস্থিত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়। টাইটেল পার্টনার মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। সহযোগিতায় রয়েছে সিসিএন শিক্ষা পরিবার, নন্দী রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস (প্রা.) লিমিটেড ও এমআরসি বিল্ডার্স লিমিটেড।