পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রোববার সকাল ১০টার দিকে কিশোর জুবায়ের লক্ষ্মীপুর গ্রামের একটি স্থানে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে যায়। কিছুক্ষণ পর তৃষ্ণা মেটাতে সে সেখানকার মো. লিটনের বাড়িতে যায়। নলকূপের পানি পান করার পর নলকূপটির মাথায় ঝুলে থাকা লিটনের শার্টের পকেট থেকে সে ৫০ টাকা চুরি করে। বিষয়টি দেখে লিটন সেখানে আসেন এবং ওই কিশোরকে টেনেহিঁচড়ে তাঁর ঘরে নিয়ে যান। সেখানে জুবায়েরকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন তিনি। এতে কিশোরটির নাক, মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত হয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে আসেন এবং লিটনকে থামিয়ে ওই কিশোরের পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানকার চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলে ওই দিন তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। বাড়িতে পুনরায় অসুস্থ হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে আজ মঙ্গলবার ভোরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সে।

মো. জুবায়েরের বাবা বাচ্চু গাজী অভিযোগ করে বলেন, মাত্র ৫০ টাকা চুরির অভিযোগে তাঁর ছেলেকে যেভাবে মারধর করে মেরে ফেলা হয়েছে, তা খুবই অমানবিক। এটি হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় তিনি থানায় হত্যা মামলা করবেন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মো. লিটনের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন বলেন, ঘটনাটির পর থেকে লিটন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। এটি হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আটকের চেষ্টা চলছে।