একটি পক্ষ দেশকে গণতন্ত্রহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
একটি পক্ষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে দেশকে গণতন্ত্রহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হতে চলছে। আপনারা দেশপ্রেমিক হোন। আপনাদের যে ভূমিকা, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের মানুষ তা দেখেছে। আপনারা অনুতপ্ত হোন। আপনারা ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং এই দেশটাকে গড়ার জন্য সহযোগিতা করুন।’
আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স (স্বাধীনতা কমপ্লেক্স) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নগরের কাজির দেউড়ি এলাকায় জিয়া স্মৃতি জাদুঘরও পরিদর্শন করেন তাঁরা। দুটি স্থানেই পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। একই সঙ্গে জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের নাম পুনর্বহালের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘পুরোনো সার্কিট হাউসে সংরক্ষিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সংগ্রহ যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যথাযথভাবে সংস্কার সম্পন্ন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন নিদর্শন ও স্মারক এখানে সংরক্ষণ করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা জিয়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করে বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতা কমপ্লেক্স নামকরণ করেছিল। এটি জিয়াউর রহমানের প্রতি রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আগের নাম পুনর্বহালের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন বলেন, ভূমিকম্পের কারণে জিয়া জাদুঘরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই স্থাপনা ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। আগামী প্রজন্মের কাছে এসব স্থাপনার ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।