মাদকবিরোধী প্রচারণায় মাদকসেবীরা থাকলে এটি প্রতিরোধ করা কঠিন বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম তখনো মাদকদ্রব্য সেবনের অভিযোগ ছিল। আমি নিজে এটা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছি, সফলও হয়েছি। সে সময় কয়েকজন শিক্ষকও মাদক সেবনে জড়িত ছিলেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমানে অবস্থা প্রকট আকার ধারণ করছে। গুটিকয়েক শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। এটা নির্মূল করতে হবে।’

নিয়মিত মাদক সেবন করেন, এমন একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ক্যাম্পাসে ছাত্রদের পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে শেখ রাসেল হল বাদে বাকি চারটিতেই অবাদে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবন চলে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ছাদে ও গভীর রাতে কয়েকটি বিশেষ কক্ষে মাদক সেবনের আসর বসে। সবচেয়ে বেশি মাদক সেবন চলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে। আর মাদকদ্রব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলে গাঁজা সেবন। কম টাকায় সহজেই মেলে গাঁজা। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবাও।

কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তে এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অবস্থান। আশপাশের এলাকাগুলোয় অনেক মাদক বিক্রেতা রয়েছে। মুঠোফোনে কল পেয়ে তাঁরা ক্যাম্পাসে মাদক পৌঁছে দেন। ক্যাম্পাসে সীমানাপ্রাচীর থাকলেও মোটরসাইকেল নিয়ে অবাধে যে কেউ ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। এ সুযোগে নির্দিষ্ট হলে বা কক্ষে গাঁজা পৌঁছে দেন মাদক ব্যবসায়ীদের লোকজন।

একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মাদকদ্রব্য কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তা জড়িত। বিশেষ করে যেসব ছাত্রনেতার বাড়ি ক্যাম্পাসের আশপাশে, তাঁদের প্রভাবই বেশি। তাঁদের অনুসারী কর্মীরা মাদকদ্রব্য কেনাবেচায় সহযোগিতা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে ক্যাম্পাসে সহজলভ্য হয়েছে মাদক। একই সঙ্গে বেড়েছে মাদকসেবী শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের বেশ কয়েকটি কক্ষসহ বিভিন্ন আবাসিক হলে মাদকের আসর বসে। এ নিয়ে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় বছর ধরে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে লালন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মাদক কোনোভাবেই যায় না। তবে প্রশাসনের দু–একজন ব্যক্তি প্রভাবশালী ছাত্রদের ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করছেন। মাদকের অভিযোগও আসছে।

ক্যাম্পাসের ভেতরে পূর্ণাঙ্গ থানা থাকলেও পুলিশ সরাসরি ক্যাম্পাসে কোনো অভিযান চালাতে পারে না। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মাদক কেনাবেচার কিছু কিছু বিষয় জানা আছে। কিন্তু কিছু করতে পারি না। প্রশাসনের অনেক বিধিনিষেধ রয়েছে।’

জানতে চাইলে উপাচার্য আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে দুজন ছাত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি তৎপর রয়েছে। প্রয়োজনে হলে হলে গিয়ে রেইড দেওয়া হবে। সেটা এখনো হতে পারে, কয়েক দিন পরও হতে পারে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন