তারেক রহমান রাজশাহীতে, জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন স্থানীয় নেতারা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করেছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা এলাকা থেকে এসেছেন ভ্যানচালক মো. গোলাপ (৪৫)। তাঁর সঙ্গে আছে পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে আবীর। বাবার হাতে একটি প্লাস্টিকের ধানের শীষ আর ছেলের হাতে পতাকা। মাঠের উত্তরের গেট দিয়ে স্রোতের মতো মিছিল ঢুকছে জনসভা মাঠে। প্রতিটি মিছিলকে ধানের শীষ আর পতাকা নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এই বাবা-ছেলে। দলে এই ভ্যানচালকের কোনো পদ নেই। তারেক রহমান আসবেন, তাই সকাল থেকে ছেলেকে নিয়ে মনের আনন্দে তিনি এই কাজ করছেন।

রাজশাহীতে দীর্ঘ ২২ বছর পর দলের চেয়ারম্যান হয়ে তারেক রহমান আসছেন নির্বাচনী জনসভায়। এর আগে এসেছিলেন দলের সিনিয়র মহাসচিব হয়ে। জনসভার আয়োজন করা হয়েছে রাজশাহী নগরের হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। স্থানটি স্থানীয়ভাবে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দান হিসেবে পরিচিত। সকাল ১০টার মধ্যে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ১৩টি নির্বাচনী এলাকার মানুষের আগমনে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজ রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরের বাইরে তাঁকে স্বাগত জানান দলের নেতা–কর্মীরা। এ ছাড়া পবা উপজেলা পরিষদের সামনেও নেতা–কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। নগরের আমচত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে সকাল থেকেই মাঠে মানুষ ঢুকতে শুরু করেছেন। দূরদূরান্ত থেকে নেতা–কর্মীরা বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে জনসভায় আসছেন। তবে তাঁদের গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বে রেখে হেঁটে সমাবেশে ঢুকতে হচ্ছে। দলীয় নেতা–কর্মীদের বাইরে আরও অনেক সাধারণ মানুষ এসেছেন। তাঁদের পোশাকআশাক দেখেই বোঝা যায়, তাঁরা মনের টানেই এই সমাবেশে এসেছেন।

২২ বছর পর তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছেছেন
ছবি: প্রথম আলো

বাগমারা থেকে ট্রাকে চড়ে সকাল সাতটায় সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন কৃষক মঈম। তাঁর মাথায় ধানের শীষ প্রতীকের ফিতা বাঁধা। রোদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে গায়ের জ্যাকেট মাফলার দিয়ে বেঁধে পিঠে ঝুলিয়ে নিয়েছেন। তাঁর চেহারা দেখে বোঝা যায়, তিনি একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। কৃষক মঈম বলেন, তাঁর নামের আগে–পরে কিছুই নেই, শুধুই মঈম। তাঁর বয়স ৫৬ বছর। দলের কোনো পদ নেই, দলটিকে ভালো লাগে তাই এসেছেন। তাঁর সঙ্গে এমন প্রায় ১০০ জন মানুষ এসেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে এসেছেন আমিনুল ইসলাম (৫৬)। তিনি এলাকায় আম ও গুড়ের ব্যবসা করেন। দলে তাঁর কোনো পদ নেই। তাঁরা ১২ জন মিলে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল সাতটায় উঠেছি, চিড়া-মুড়ি আর কলা দিয়ে নাশতা করে এক জায়গায় জড়ো হয়েছি। ১০টার দিকে জনসভায় এসে পৌঁছেছি।’

এদিকে সকাল ১০টা থেকে স্থানীয় নেতারা মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন ধরেছেন। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশগঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। মঞ্চ থেকে নেতাদের বক্তব্য প্রচারের জন্য মাঠের বাইরে মাইক লাগানো হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৭০টি মাইক এই জনসভার বক্তব্য প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

তারেক রহমানের রাজশাহীর বিমানবন্দরে নেমে হজরত শাহ মখদুম (রহ.)–এর দরগা শরিফে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারপর তিনি যাবেন জনসভায়। এই জনসভায় রাজশাহী জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের নেতা–কর্মীরা অংশ নেবেন। রাজশাহীর জনসভা শেষ করে তারেক রহমান বেলা সাড়ে তিনটায় নওগাঁর পথে রওনা হবেন। সন্ধ্যায় নওগাঁর এটিএম মাঠে জনসভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে এসেছেন নওহাটার মো. গোলাপ। আজ বৃহস্পতিবার
ছবি: প্রথম আলো

নওগাঁ থেকে তারেক রহমান যাবেন বগুড়া। এরপর রাত আটটার দিকে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আরও একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। নওগাঁর জনসভায় জয়পুরহাটের নেতা–কর্মীরা অংশ নেবেন। আর বগুড়ার জনসভায় পাবনা ও সিরাজগঞ্জের নেতা–কর্মীরা যাবেন।

এর আগে ২০০৪ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী এসেছিলেন তারেক রহমান। এরপর দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম সফর। তাঁর এই সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত দলের নেতা–কর্মীরা। এই জনসভা থেকে তারেক রহমান এ অঞ্চলের মানুষের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি নির্বাচনে তিনি ধানের শীষে ভোট চাইবেন।