রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার করে মহাদেবপুর থানার পুলিশ।

মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য আওয়ামী লীগের কর্মীদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির এ ধরনের অপতৎপরতার উচিত জবাব দেবে।

তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম দাবি করেন, আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা নিজেরাই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে নেতা-কর্মীরা যাতে অংশ নিতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রাতে মামলা হওয়ার পর এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আজ সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে মহাদেবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুলবুল সিনেমা হলের সামনে একটি চায়ের দোকানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের কয়েকজন নেতা–কর্মী বসে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মহাদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের সদস্য সাকলাইন আহমেদ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাওসার আলী ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাঁদের লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বিএনপির নেতা–কর্মীদের দায়ী করে রাতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাওসার আলী বাদী হয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, সদস্য চঞ্চল রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এফআই সবুজের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।