গতকাল সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নুর নবীর বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, রোববার সকালে প্রাইভেট পড়ে বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় অফিস সহকারী নুর নবী ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করেন।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকালে কয়েকজন ছাত্রী বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রাইভেট ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ছবি ও ভুল সংশোধনের কথা বলে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অফিস সহকারী নুর নবী তাঁর কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে নুর নবী রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফাইল বের করে ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে যায়। পরদিন সোমবার ভয়ে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে ও প্রাইভেট পড়তে যায়নি। পরে মায়ের কাছে সে ঘটনাটি বলে। এ ঘটনার পর থেকে অফিস সহকারী নুর নবীও দুই দিন স্কুলে আসেননি। পরে এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করে ছাত্রীর পরিবার।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর ভাই প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার দুদিন পরও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রীকে নিয়ে তাঁরা বিদ্যালয়ে যান। সেখানে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের জানানোর পর বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়। ইউএনও বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় ছাত্রীর পরিবারকে থানায় মামলা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তাঁর বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নুর নবীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীর মা বলেন, নুর নবী শুধু তাঁর মেয়কে নয়, অন্য আরও কয়েক শিক্ষার্থীকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে একই কায়দায় যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন। ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রীর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নুর নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে ফেনীর কারাগারে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন