আজ সকালের দিকে মাছগুলো জালে আটকা পড়ে। পরে মাছগুলো নদীর তীরে আড়াতে নিয়ে নিলাম করলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ ৮০ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। ওই মৎস্য ব্যবসায়ী বাজারে এনে ২০টি বড় মাছ ৬৪ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, উপজেলার আদর্শগ্রাম এলাকার জেলে মো. আবদুল খালেকসহ সাত-আটজন জেলে গতকাল সোমবার গভীর রাতে ইলিশ ধরতে নদীতে জাল ফেলেন। ভোর হওয়ার পর জোয়ার কমতে থাকায় জালে আচমকা টান মারলে বুঝতে পারেন, বড় কিছু আটকা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই দেখতে পান, অনেকগুলো বড় ইলিশ ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে ছোট ইলিশও ধরা পড়েছে।

আবদুল খালেক বলেন, মাছ ধরা শেষে বেলা ১১টার দিকে নদী থেকে ফিরে মাছগুলো স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে যান। সেখানে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ৮০ হাজার ৫০০ টাকায় তিনি মাছগুলো বিক্রি করেন। পৌর শহরের পাইকারি মাছ বিক্রেতা নেয়ামত উল্যাহসহ আরেক ব্যবসায়ী যৌথভাবে সব কটি মাছ কিনে নেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে মাছ কিনতে আড়তে যান তিনি। সেখানে গিয়ে বড় ইলিশ দেখে অবাক হন। ওজন দিয়ে দেখেন, ২০টি ইলিশের ওজন প্রায় ৪০ কেজি। পরে জেলে নিলামে ডাক তুললে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তাঁরা দুজন ২০টি ইলিশ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকায় কিনে নেন। পরে মাছগুলো বিক্রি করার জন্য দুপুরে পৌর শহরের মাছের বাজারে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সম্প্রতি বড় ও ছোট ফেনী নদীতে ইলিশ ছাড়াও ৫ থেকে ২০ কেজি ওজনের কোরাল, বোয়াল, কাতলা, পাঙাশ, বাগাড়সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছ বেশ সুস্বাদু। নদীর মাছ সুস্বাদু হওয়ায় দামও একটু বেশি পাওয়া যায়।

উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা প্রথম আলোকে বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগে মাঝেমধ্যে অন্যান্য প্রজাতির বেশ বড় মাছ পাওয়া গেছে। এই মৌসুমে নদীতে একাধিকবার দুই, আড়াই ও তিন কেজি ওজনের বড় ইলিশ ধরা পড়ল। তবে সামনে আরও বড় বড় মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় স্থানীয় জেলেরা উপকৃত হচ্ছেন। এ কারণে নদী ও সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার বেড়েছে। যার ফলে নদীতে টানা ও বসানো জালে বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন