পাউবোর ডালিয়া জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যারাজের ৫ নম্বর চেকপোস্টের বিপরীতে ফ্লাড বাইপাসের ৩০ শতক জমিতে অবৈধভাবে ২০২১ সালের বালু ভরাট শুরু করেন আবু বক্কর সিদ্দিক। এরপর সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। এ বিষয়ে দোয়ানি জোনের পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাশেদীন ২০২১ সালের ১১ আগস্ট আবু বক্করকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে চিঠি দেন। কিন্তু এতে কর্ণপাত না করে তিনি নির্মাণকাজ চালিয়ে যান। পরে ২৫ আগস্ট আবার নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পাউবোর ডালিয়া জোনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবদুর রব ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর আবু বক্করের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে ওই স্থাপনার কাজ শেষ হয়। ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর প্রথম আলোতে ‘পাউবোর জমিতে অবৈধ স্থাপনা’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

পাউবোর কর্মকর্তারা বলেন, নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা গত ৬ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে জরুরি চিঠি দেন। এর আগে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর একই প্রসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একই দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর জরুরি চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে শ্যামল বলেন, এই জমি তাঁর বাপ-দাদার আমলে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, অনেকে টাকা পাননি। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে।

সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনকে গতকাল রোববার বিকেলে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। খুদে বার্তাও পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

পাউবোর কর্মকর্তা আসফাউদদৌলা বলেন, ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য পাউবোর পক্ষে যা করা উচিত, তার সবই করা হয়েছে। পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। পাউবোর পক্ষ থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার দোয়ানিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য চিঠি পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। উচ্ছেদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন