টাকা লুটে নিতে গৃহবধূকে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলে হত্যা করে কিশোর স্বজন: পুলিশ

হত্যাপ্রতীকী ছবি

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় গৃহবধূকে হত্যার পর টাকা লুটের ঘটনায় এক কিশোরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গরু বিক্রির টাকা লুট করতে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ইট ও হাতুড়ি দিয়ে থেঁতলে গৃহবধূকে হত্যা করে কিশোর স্বজন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

গ্রেপ্তার কিশোরের বয়স ১৭ বছর। একই ঘটনায় তার বন্ধু বরকল উপজেলার ওমর আলীকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত রোববার রাতে নিজ ঘর থেকে রফিজুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগমের (৪৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইট ও হাতুড়ি পাওয়া যায়। পরে সোমবার নিহত গৃহবধূর ছেলে আশরাফ আলী বাদী হয়ে বরকল থানায় একটি হত্যা ও ডাকাতি মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় বরকল থানা ও শুভলং পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকালে নিজ নিজ বাড়ি থেকে এক কিশোরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে ওই কিশোরের ঘরের সিলিং থেকে পলিথিনে মোড়ানো এক লাখ ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আর তার বন্ধু ওমর আলীর বাড়ির পাশের করলা বাগান থেকে মাটিতে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আরও ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে লুট হওয়া এক লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, কিছুদিন আগে সাতটি গরু বিক্রি করেছিলেন নিহত আয়েশা বেগম। গরু বিক্রির এসব টাকা কোথায় রাখা হয়েছে সে তথ্য কিশোর স্বজনের কাছে ছিল। এরপর সে টাকা লুট করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বাড়িতে শুধু আয়েশা বেগম ছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আয়েশার বাড়িতে যায় ওই কিশোর। এরপর আয়েশাকে হত্যা করে এসব টাকা লুট করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইকবাল হোসেন, বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দীন, জেলা পুলিশের মিডিয়া ইনচার্জ এইচ এম মাহমুদ প্রমুখ।