আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা লোকজনের মধ্যে অন্য দিনের মতো ব্যস্ততা নেই। অনেকটা অলস সময় পার করছেন তাঁরা। এর মাঝেই বাসের খোঁজে একটু পরপর কাউন্টারে আসছেন যাত্রীরা। কিন্তু ঠিকমতো বা সময়মতো বাস না আসায় তাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের কারও হাতে ব্যাগ, কারও কোলে শিশু, কারও বা মাথায় বস্তা। অনেকক্ষণ পরপর দুয়েকটি বাস আসতে দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। এতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অপেক্ষমাণ এসব যাত্রীর একজন লাবিনা আক্তার। যাবেন নেত্রকোনা জেলায়। সাভারের আশুলিয়া থেকে বেলা একটায় এসেছেন বাস কাউন্টারে, কিন্তু দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো বাস পাচ্ছেন না। তাই অন্য সবার মতো তিনিও বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। লাবিনা আক্তার বলেন, ‘অন্য কোনো দিন কাউন্টারে এসে বাসের জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। হঠাৎ করে বাস কমে গেছে। কাউন্টারে বাস কখন আসবে জানতে চাইলে তাঁরাও কিছু বলতে পারছেন না।’

বাস কাউন্টারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সড়কে দূরপাল্লার বাস কমেছে। বাসমালিকেরা অনেকে ইচ্ছে করেই বাস কমিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে থেকেও বাস পাচ্ছেন না। আবার অনেক বাস মহাখালী থেকেই পরিপূর্ণ হয়ে আসছে। এ কারণে চেষ্টা করেও আবদুল্লাহপুর থেকে অনেকে উঠতে পারছেন না।

ময়মনসিংহগামী দুর্জয়-দুরন্ত, মিম এন্টারপ্রাইজ, মোরশেদা, ক্রাউন ডিলাক্সসহ সাত থেকে আটটি পরিবহনের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা হৃদয় নামের একজন বলেন, সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি বাস চলাচল করে। কিন্তু আজ এখন পর্যন্ত ১০০ বাসও যায়নি। এ কারণে যাত্রীরাও ঠিকমতো বাস পায় না।