চিকিৎসকের অভাবে চালু হচ্ছে না সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আইসিইউ
আইসিইউ বিভাগ চালু করতে হলে তিনজন চিকিৎসক ও তিনজন অ্যানেসথেটিস্ট (অবেদনবিদ) লাগবে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সহযোগী কর্মীর প্রয়োজন।
সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য কক্ষ ও শয্যা প্রস্তুত। সব যন্ত্রপাতিও আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে এটি চালু হচ্ছে না। ফলে সুনামগঞ্জের বাসিন্দাদের আইসিইউ সেবা পাওয়ার জন্য ছুটতে হয় বিভাগীয় শহর সিলেটে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি যাতায়াতের ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপপরিচালক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, সবকিছুই প্রস্তুত আছে। এখন চিকিৎসক পেলেই আইসিইউ চালু করা যাবে। কিন্তু হাসপাতালেই অর্ধেক চিকিৎসকের পদ শূন্য। তাঁরা চিকিৎসকের জন্য আবেদন করেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার প্রধান ভরসা সদর হাসপাতাল। চিকিৎসকসহ নানা সংকটের মধ্যেই এখানে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনাসহ গুরুতর অবস্থার রোগীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় সিলেটে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছিলেন স্থানীয় লোকজন। করোনাকালে এ দাবি আরও জোরালো হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিসেফের একটি প্রকল্পের অধীনে হাসপাতালের পুরোনো ভবনে ছয় শয্যার আইসিইউ ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও করোনার প্রকোপ কমে যাওয়ায় পুরোনো ভবনে আইসিইউ আর স্থাপন করা হয়নি।
পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের আটতলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স আ প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের কাজ শুরু হয়। গত ২১ মার্চ প্রয়োজনীয় শয্যা, সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি বুঝে পেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু লোকবলের অভাবে এটি চালু করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে, আইসিইউ বিভাগ চালু করতে হলে তিনজন চিকিৎসক এবং তিনজন অ্যানেসথেটিস্ট (অবেদনবিদ) লাগবে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন সহযোগী কর্মীর প্রয়োজন। আইসিইউয়ের কর্মী হাসপাতালের লোকবলেই চালানো সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসক নেই। আইসিইউ চালু করতে প্রয়োজনীয় লোকবলের জন্য সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আইসিইউতে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জামের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে।
সদর হাসপাতালের দেওয়া তথ্যমতে, ৬৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৩১ জন। ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য। ৩২ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা থাকার কথা, আছেন ১৬ জন। মেডিসিন, অর্থোপেডিকস ও শিশু বিভাগের ছয়টি পদে ছয়জন কর্মরত আছেন। হাসপাতালে হৃদ্রোগের কোনো চিকিৎসক নেই। নার্সের ২৫৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২০০ জন। ৩৭ জন কর্মচারীর পদ থাকলেও আছেন ২০ জন।
শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলা। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে লোকজন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। সিলেটে গিয়ে সবার চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য থাকে না। তাই সদর হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা এখন সময়ের বিষয়।
টিআইবির সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আইনুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতেই প্রান্তিক জেলা হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই। আইসিইউ চালুর জন্য অনেক দিন ধরে বলা হচ্ছে। এটি খুবই জরুরি। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে দ্রুত এখানে আইসিইউ সেবা চালু করা হোক।’