বগুড়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যালয় ‘দখল’
বগুড়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে জেলা জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ে ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ, বগুড়া জেলা’ নামে দুটি ব্যানার টাঙানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বলেন, শনিবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে কয়েকজন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে জাপার কার্যালয় দখলে নেন। এ সময় তাঁরা কার্যালয়ে জাপার পক্ষ থেকে টাঙানো খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক-সংবলিত একটি ব্যানার খুলে ফেলেন। পরে বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণা কেন্দ্র’ ও ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ’ লেখা দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন। এ সময় জাপা নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। তবে কার্যালয় থেকে ব্যানার সরাতে পারেনি।
জেলা জাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর বগুড়া জেলা জাপার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এরপর ভাঙা কার্যালয়ে বসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন নেতা-কর্মীরা। কিন্তু জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে শুক্রবার প্রথম দফা জেলা জাপার কার্যালয় দখলের চেষ্টা করা হয়। আজ দ্বিতীয় দফায় কার্যালয় দখলে নিয়ে দুটি ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশকে খবর দিলেও তারা কার্যালয় দখলমুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। আগামীকাল রোববার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হবে।
জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে জাপার কার্যালয়ে ব্যানার টাঙানো ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। এ কারণে এ ব্যাপারে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কিছু ব্যক্তি জুলাই যোদ্ধাদের নামে জাপার কার্যালয়ে দুটি ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছেন। কার্যালয় দখল করা হয়েছে কি না, পুলিশের জানা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যানার টানানোর সময় এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক এ টি এম নাহিদুজ্জামান, সদস্য নুর মোহাম্মদ জোবায়ের, জাতীয় ছাত্রশক্তি বগুড়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সৈকত আলী ছাড়াও এনসিপির বেশ কয়েকজন সমর্থক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এম এস এ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, জাপার কার্যালয়ে ব্যানার টানানোর সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তবে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে জুলাইযোদ্ধাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন।
এম এস এ মাহমুদ আরও বলেন, ‘বগুড়ার আগের জেলা প্রশাসক আমাদের নিশ্চিত করেছেন ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের আগে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা জাপার কার্যালয় যেখানে ছিল সেটা সরকারি জায়গা। ইতিমধ্যে দুটি কার্যালয়ের লিজ বাতিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে লিজ বাতিল করার পর সেটা জনগণের সম্পত্তি, জাপার কার্যালয় নয়।’ তিনি বলেন, জুলাইযোদ্ধারা কোনো কার্যালয় দখল করেনি। আপাতত সেখান থেকে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা চালানো হবে। যারা নিজেদের কার্যালয় দাবি করছে, তারা জেলা প্রশাসনে যোগাযোগ করুক। লিজের কাগজপত্র দেখাতে পারলে জুলাইযোদ্ধারা সেখান থেকে ব্যানার খুলে নেবে।