খামারিদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ব্যাংকঋণ মওকুফ, বিনা সুদে পুনর্বাসন ঋণদান, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের সরকারি প্রণোদনা প্রদান, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে বিমার আওতায় নিয়ে আসা এবং খামারিদের পুনর্বাসনে সরকারি প্রকল্প নেওয়ার দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনের উপদেষ্টা খায়রুল কবির, জেলা আহ্বায়ক মো. দারু মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহীন চৌধুরী, নুরুল আলম, জিয়া উদ্দিন, জাহির উদ্দিন, মনজুর আলম, সদস্যসচিব সাইফুল আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলায় ২৫ হাজার ১৭৩টি পুকুর আছে। মাছচাষি আছেন সাড়ে ১৬ হাজার। এবারের বন্যায় সব পুকুরের মাছ, পোনা ভেসে গেছে। ভেসে যাওয়া মাছের পরিমাণ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, পোনা ভেসে গেছে প্রায় ১০ কোটি। এ ছাড়া মাছের খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার। বন্যায় জেলায় ৪২২টি গরু, ৩৭টি মহিষ, ৬৬৯টি ছাগল, ৫১৪টি ভেড়া, ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫টি মুরগি, ৯৭ হাজার ৮৩১টি হাঁস মারা গেছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, এবারের মতো অতীতে কখনোই সুনামগঞ্জের মাছচাষিরা এত ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাঁরা সব জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সরকারি কোনো সহযোগিতা, প্রণোদনা এলে মাছচাষিরা সেটা পাবেন।

সুনামগঞ্জে গত ১৬ জুন থেকে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। বসতবাড়ি, অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। টানা চার দিন সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল সুনামগঞ্জ। এ সময়ে মুঠোফোনের নেটওয়ার্কও বন্ধ ছিল। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নেন বিভিন্ন শিক্ষপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িঘরে। সরকারি হিসেবে বন্যায় জেলার ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন