তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, জসীমউদ্‌দীনকে জানতে হলে তাঁর বই প্রতিনিয়ত পড়তে হবে। নিজেদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির প্রয়োজনে নিয়মিত জসীমউদ্‌দীনকে চর্চা করতে হবে। তিনি বলেন, জসীমউদ্‌দীনের বাড়ির পাশে জসীম সংগ্রহশালা স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ না জানায় এটি কাজে আসছে না। এ সংগ্রহশালা জনপ্রিয় করতে জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগী হতে হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ইশতিয়াক, ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস, পল্লিকবির ছেলে খুরশিদ আনোয়ার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক মোল্লা প্রমুখ বক্তব্য দেন। এর আগে বেলুনের সঙ্গে ফেস্টুন ও পায়রা ওড়ান আমন্ত্রিত অতিথিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জসীম পল্লী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন অতিথিরা।

জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। জসীম ফাউন্ডেশনের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাসলিমা আলী বলেন, মেলায় দুই শতাধিক স্টলে লোকজ বিভিন্ন চারু ও কারুপণ্যের বিপণনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে জসীম মঞ্চে নাচ, গান, নাটকসহ বিভিন্ন লোকজ অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৮ সাল থেকে ফরিদপুরে পল্লিকবির বাড়িসংলগ্ন কুমার নদের তীরে জসীম মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ওই বছর ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে ১ জানুয়ারি পল্লিকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার ব্যাপ্তিকাল প্রথমে তিন দিন ছিল। পরে ৭ দিন, ১৫ দিন এবং এক মাসব্যাপী মেলার আয়োজন হয়েছে। ১৯৯১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলে মেলার গুরুত্ব বেড়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসন ও জসীম ফাউন্ডেশন মেলার আয়োজন শুরু করে।

২০১৭ সালে জসীম পল্লী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও কবিপুত্র জামাল আনোয়ারের মধ্যকার বিরোধে বন্ধ হয়ে যায় মেলা। ২০২০ সালে খন্দকার মোশাররফ ফরিদপুরের রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে বিদায় নিলেও করোনার কারণে ২০২১ সালে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। চার বছর বন্ধের পর গত বছর ২০২২ সালের ১৫ মে পুনরায় পল্লী মেলা শুরু হয়।