বুদ্ধপূর্ণিমায় রাঙামাটিতে শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন
রাঙামাটিতে নানা আয়োজনে উদ্যাপন হচ্ছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা। উৎসব উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় বনরূপা মৈত্রীবিহার প্রাঙ্গণ থেকে এক শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে সেটি তবলছড়ি আনন্দবিহারে গিয়ে শেষ হয়েছে।
পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ—এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এতে ব্যানার, ফেস্টুন, বৌদ্ধ পতাকা হাতে অংশ নিতে দেখা যায় নানা বয়সী নারী-পুরুষকে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষও এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রা শেষে সকাল ৯টা থেকে বিহার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে পঞ্চশীল প্রার্থনা, দানসামগ্রী উৎসর্গ, ধর্মীয় দেশনাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান রাঙামাটি রাজবন বিহারে জাঁকজমকভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে বুদ্ধপূর্ণিমা। সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বনভান্তের আবাসিক ভবনের পশ্চিম পাশে ও দেশনা ঘরের উত্তর পাশে দুটি বুদ্ধ প্রতিবিম্ব রাখা হয়েছে। সেখানে বিহারে আগত দায়ক-দায়িকারা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদের কেউ বুদ্ধ প্রতিবিম্বে ফুল দিচ্ছেন, কেউ স্নান করে দিচ্ছেন, কেউবা দুই হাত জোড় করে বন্দনা করছেন।
রাজবন বিহারে কথা হয় ত্রিনয়ন চাকমা, সীমা চাকমা ও সুস্মিতা চাকমার সঙ্গে। তাঁরা জানান, বিশ্বের সব প্রাণীর মঙ্গল কামনা করে বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করেছেন তাঁরা। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে শান্তি বিরাজ করুক, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
সকাল ৯টায় রাজবনবিহারের অনুষ্ঠান মঞ্চে আগমন করে ভিক্ষু সংঘ। এরপর ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে রাজবনবিহারের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে পঞ্চশীল গ্রহণ, নানাবিধ দাহকার্য সম্পাদন এবং সব প্রাণীর হিতসুখ মঙ্গল কামনায় ধর্মদেশনা দেন রাঙামাটি রাজবনবিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।