টাকাসহ জামায়াত কর্মীকে পুলিশে দিলেন বিএনপির কর্মীরা, মুচলেকায় ছাড়া পেলেন

সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় জামায়াতের এক কর্মীকে পুলিশে দেন বিএনপির কর্মীরা। বুধবার দুপুরেছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতের এক কর্মীকে পুলিশে দিয়েছেন বিএনপির কর্মীরা। পরে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আসনটির সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সোনারগাঁয়ের ইউএনও আসিফ আল জিনাত এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ফোর্স সেখানে যায়। তাঁকে (জামায়াতের কর্মী) উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়। পরে অভিযোগের পক্ষে সঠিক প্রমাণ না পাওয়া তাঁকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতের ওই কর্মীর কাছে ব্যক্তিগত টাকা ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি এলাকায় আসাদুজ্জামান (৫৫) নামের জামায়াতের এক কর্মীকে আটক করেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা পাওয়া যায় এবং সেই টাকা ভোটারদের মধ্যে বিলি করার অভিযোগ তোলেন বিএনপির লোকজন। পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে সেখানে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিজিবি ও পুলিশ সেখানে যায়।

আসাদুজ্জামান দড়িকান্দি উত্তর জাইদেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সনমান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আবদুর রহিম বলেন, ‘জামায়াতের সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি নাছিরউদ্দিনের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট কেনার সময় হাতেনাতে আসাদুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশে দিই।’

সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন গঠিত। এখানে মোট ১১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান (ধানের শীষ), বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম (ঘোড়া), বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য মো. গিয়াসউদ্দিন (ফুটবল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।