স্থানীয় বাসিন্দা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামে ১০ শতক জায়গার মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চুনিয়াপাড়া গ্রামের ওমর আলীর সঙ্গে হায়দার আলীর দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই জমি নিয়ে মামলাও চলছে। এর মধ্যে আজ সকালে মনোয়ার তাঁর বন্ধু রাকিবকে নিয়ে ওমর আলীর বাড়ির পাশে নিজের গভীর নলকূপ দিয়ে ওই জমিতে পানি সেচ দিতে যান। এ সময় ওমর আলী তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ওমর আলীর পরিবারের ৬-৭ জন সদস্য চাকু, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মনোয়ার ও রাকিবের ওপর হামলা করেন। এতে ছুরিকাঘাতে মনোয়ার ঘটনাস্থলে মারা যান।

এদিকে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে রাকিব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন রাকিবকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে মনোয়ার ও রাকিবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ওমর আলীর বাড়িতে হামলা চালান।  

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার নূর-ই আজমির ঝিলিক বলেন, আজ সকালে আহত অবস্থায় ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। এর মধ্যে রাব্বি (২৪) নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা পুলিশি হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনা নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।