সাজেক থমথমে, চলছে না যানবাহন, বন্ধ দোকানপাট
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধে কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ‘গোলাগুলির’ ঘটনার পর থেকে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এলাকায়। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাঘাইহাট বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বেশির ভাগ দোকানপাটও বন্ধ। কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। বাজার প্রায় লোকশূন্য। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর থাকে বাজারটি।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়কেও মানুষের যাতায়াত কম। বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বের হয়েছেন তাঁদের হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের।
বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছেন। যার কারণে সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজেক বর্তমানে একেবারেই পর্যটকশূন্য। আগের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। সাজেকে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না।’
সাজেক অবরোধ চলছে গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠনের ডাকে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজেকে সড়ক অবরোধ এখনো চলমান। সাজেক ১০ নম্বর ও ১৪ কিলোমিটার এলাকায় আমাদের পিকেটিং চলছে।’
জানতে চাইলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, আজ সে রকম পরিস্থিতি নেই। আমরা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
সংগঠন দুটির তৃতীয় দফায় ডাকা অবরোধের প্রথম দিনেই গতকাল বৃহস্পতিবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গতকাল সকাল থেকেই সাজেকের উজো বাজার এলাকায় অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়িবহর চলাচলে বাধা দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর এগিয়ে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।
এ উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল বেলা একটার দিকে সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরার পথে অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।