ঘুমধুম ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভোর সাড়ে পাঁচ থেকে সকাল পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫টি মর্টার শেলের শব্দ শুনেছেন। গতকাল সোমবারও ভোর থেকে গোলাগুলি শুরু হয়েছিল। দুপুর পর্যন্ত গোলাগুলি চলে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে সীমান্তে এমন গোলাগুলি চলছে। হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এপারের আতঙ্ক যাচ্ছে না।

শফিকুল ইসলামের বাড়ি পশ্চিমকুল গ্রামের পাহাড়ে। তাঁর বাড়ি থেকে দক্ষিণ দিকে ১৬০ গজ দূরত্বে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তুমব্রু রাইট পাহাড়। পাহাড় চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে ওই দেশের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সীমান্তচৌকি। ওই চৌকি থেকেই মর্টার শেল ও গুলি চলে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম।

পশ্চিমকুল গ্রাম থেকে এক কিলোমিটার পূর্বে ক্যাম্পপাড়া। এখানে কয়েকটি হিন্দু পরিবার আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পরিবারের এক নারী বলেন,‘সবচেয়ে ঝুঁকিতে এই পাহাড়ের লোকজন। ঘরে ঘরে গোলার আতঙ্ক। ভয়ে ছেয়েমেয়েরা কান্নাকাটি করে, স্কুলে যাওয়া–আসাও বন্ধ ছয়-সাত দিন ধরে। কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

default-image

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ঘুমধুম ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ইউনিয়নের ১৫ কিলোমিটার সীমান্তে ১৫-১৬টি গ্রামের অন্তত ১২ হাজার মানুষ আতঙ্কে আছেন। জনগণের নিরাপত্তায় সেখানে বিজিবি টহল ও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তিন শতাধিক পরিবারকে সীমান্ত থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হবে। প্রস্তুতিও চলছে।

ঘুমধুম ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোনারপাড়ার পাশে শূন্যরেখায় আশ্রয়শিবির গড়ে বসতি করছে ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। আশ্রয়শিবিরের পেছনে লাগোয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পাহাড়। পাহাড়ের চূড়ায় বিজিপির একাধিক চৌকি। আশ্রয়শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই মাস ধরে আমরা (রোহিঙ্গারা) বোমা আতঙ্কে ভুগছি। এখন যেভাবে গোলাগুলি, মর্টার শেল ছোড়া হচ্ছে, এতে আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গারা উদ্বিগ্ন, নিরাপত্তাহীন। গতকাল বিকালে আমরা আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরে মানববন্ধন করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে ইকবালের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছি। আমরা শান্তি চাই, নিরাপত্তা চাই।’

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) সোহাগ রানা বলেন, সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ কানে আসছে। কিন্তু কারা গোলাগুলি করছে, সেটা তিনি জানেন না। সীমান্তে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পুলিশের নেই। সীমান্ত এলাকায় কাউকেই যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে বিজিবি তৎপর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন