দিনাজপুরে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের ঘটনায় অবরুদ্ধ মাদ্রাসাশিক্ষককে উদ্ধার করল প্রশাসন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের অভিযোগে অবরুদ্ধ শিক্ষক তোজাম্মেল হককে উদ্ধারের সময় উত্তেজিত জনতার সঙ্গে কথা বলে উপজেলা প্রশাসনছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের অভিযোগে অভিভাবকদের কাছে অবরুদ্ধ হওয়া তোজাম্মেল হক (৫২) নামের একজন মাদ্রাসাশিক্ষককে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল রোববার রাত ১২টার দিকে উপজেলার পালশা ইউনিয়নের ধাওয়া মাঝিয়ান তালিমুল কোরআন কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষককে মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন।

তোজাম্মেল হক ঘোড়াঘাট উপজেলার কোচ মর্দন মাঝিয়ান গ্রামের প্রয়াত কাজেম আলী দফাদারের ছেলে। তিনি ২৪ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন।

থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বাংলা বিষয়ের শিক্ষক তোজাম্মেল হকের সঙ্গে আরবি বিষয়ের শিক্ষক ফিরোজ হোসেনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে শিক্ষক ফিরোজ হোসেনের উসকানিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী শিক্ষক তোজাম্মেল হকের কাছে গিয়ে তাদের গণিত বিষয়ে পড়াতে চাপ দেয়। একপর্যায়ে তোজাম্মেল হক বিরক্ত হয়ে ৫–৬ জন শিক্ষার্থীতে বেত্রাঘাত করেন। এ সময় ফিরোজ হোসেন শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের দৃশ্যটি স্মার্টফোনে ভিডিও করেন এবং অভিভাবকদের কাছে পাঠিয়ে দেন।

পরে ওই রাতে অভিভাবকেরা স্থানীয় দুই শতাধিক লোকজন নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে তোজাম্মেল হককে অবরুদ্ধ করেন। এ সময় তাঁরা তোজাম্মেল হকের বিচারের দাবিতে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে ইউএনও রুবানা তানজিন থানা–পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে যান এবং শিক্ষক তোজাম্মেল হককে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত লোকজন ও অভিভাবকদের শান্ত করা হয়।

মাদ্রাসার আরবি বিষয়ের শিক্ষক ফিরোজ হোসেন বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে কমিটি ও শিক্ষক তোজাম্মেল হকের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়া করতে না পারার কারণে শিক্ষক তোজাম্মেল হক শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করেছেন।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের সঙ্গে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ও শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের ঘটনায় গতকাল রাতে তোজাম্মেল হক নামের এক শিক্ষককে স্থানীয় লোকজন একটি মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁর ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।