সাজাপ্রাপ্তরা হলেন লালমনিরহাটের পাটগ্রামের রসুলগঞ্জের লুৎফর রহমানের ছেলে মো. আসাদুজ্জামান ওরফে আপেল মিস্ত্রি, একই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে মো. শফিক ইসলাম এবং একই উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে মোখলেছার রহমান।

তাঁদের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়।

আজ একই বছরে একই থানায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের পৃথক একটি মামলার রায়ে ওই তিন আসামির সঙ্গে জেএমবি সদস্য আরেক আসামি তফিজুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একই আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত তফিজুল পাটগ্রাম উপজেলার মির্জার কোর্ট গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

মামলার রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত জেএমবির সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁদের পুলিশের কড়া পাহারায় লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

লালমনিরহাট দায়রা জজ আদালতের পিপি আকমল হোসেন আহমেদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত জেএমবি সদস্যরা গ্রেপ্তার হয়ে যত দিন হাজতবাস করেছেন, তা ঘোষণা করা দণ্ড থেকে বাদ যাবে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ রংপুরের একটি টহল দল পাটগ্রাম পৌরসভার পোস্ট অফিস পাড়ার এম এম প্লাজা মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। র‌্যাব সদস্যরা ওই বিপণিবিতানের দক্ষিণ দিকের কাঠের ফার্নিচারের দোকানের সামনে উপস্থিত হওয়ামাত্রই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আসাদুজ্জামান, শফিক ও মোখলেছার রহমানকে আটক করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন দৌড়ে পালিয়ে যান। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বেশ কিছু জিহাদি পুস্তক উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়।