‘লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানাতে’ বন্ধুর বিয়েতে হারিকেন উপহার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বন্ধুরা বরকে একটি হারিকেন উপহার দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। বন্ধুরা বলেন, এলাকায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা এ উপহার দেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের হাতে হারিকেন তুলে দিচ্ছেন কয়েকজন যুবক। এর মধ্যে দুজন যুবক বলছিলেন, লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে তাঁরা এ উপহার দিচ্ছেন। হারিকেনের গায়ে লাগানো কাগজে রুয়েল আহমদ ও সুলতান আহমদের নাম লেখা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব ফটিগুলি গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় মুদিদোকানি রাজু আহমদ ২৭ এপ্রিল একই এলাকার এক তরুণীকে বিয়ে করেন। বিয়েতে তাঁর বন্ধু রুয়েল ও সুলতান হারিকেন উপহার দেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে রুয়েল ও সুলতানের মুঠোফোন নম্বর পাওয়া যায়নি। তবে ইবাদুর রহমান নামের তাঁদের আরেক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলা গেছে। ইবাদুরের বাড়িও পূর্ব ফটিগুলি গ্রামে। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। আজ দুপুরে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছুদিন ধরে এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। মোবাইলে চার্জ থাকে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি। এদিকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা চলছে। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারে না। এ ছাড়া কয়েক দিন আগে একটানা প্রায় ৩৮ ঘণ্টা এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। তাই রাজুর (বর) বিয়েতে দুই বন্ধু হারিকেন উপহার দেয়। আসলে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানাতেই ব্যতিক্রমী এ উপহার দেওয়া হয়।’
বিদ্যুতের অভাবে বিয়ের দিন ২৭ এপ্রিল ও এর আগের দিন ২৬ এপ্রিল বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানান রাজু আহমদ। হারিকেন উপহার পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বন্ধুদের এই উপহার সাদরে গ্রহণ করছি। উপহারটি আমার কাছে সময়োপযোগী মনে হয়েছে।’ হারিকেন জ্বালানোর প্রয়োজন পড়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দোকানে খোঁজ করে কেরোসিন পাইনি। তাই জ্বালাতে পারছি না।’
পূর্ব ফটিগুলি এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির কুলাউড়া সাব-জোনাল কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের স্থানীয় রবিরবাজার উপকেন্দ্রের প্রতিদিনের বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। অথচ সেখানে গড়ে সাড়ে তিন মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। কর্মধা এলাকায় তিন দিন ধরে লোডশেডিং হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।