স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের বুধরাইল গ্রামে ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয় এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর নানা সংকটের মধ্যেও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকার মানুষকে সেবা দিয়ে গেলেও এর আগে কোনো গর্ভবতী নারীর সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি সরকারের পাশাপাশি এলাকার প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তায় এ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছু উন্নয়ন হয়। সরকারিভাবে নারীদের প্রসবকালীন সহায়তার জন্য একজন নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয় বুধরাইল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কয়েক বছর ধরে সংস্কারহীন থাকায় এটি এখন বেহাল। এলাকার প্রবাসীদের অর্থায়নে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে আমরা ভবন সংস্কার ও হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান করি। ফলে প্রসবসেবাসহ চিকিৎসাসেবার মান বেড়েছে। এতে আমরা খুশি।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বুধরাইল গ্রামের কৃষক দুলন মিয়ার স্ত্রী ছালেমা বেগমের (২২) প্রসববেদনা উঠলে তাঁকে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার) মনিরুজ্জামান ও মিডওয়াইফ তামান্না বেগম ওই নারীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। রাত ১০টার দিকে তাঁদের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিকভাবে ওই নারী এক ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

মনিরুজ্জামান বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ নার্সিং ও একজন অফিস সহকারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তিনি ও মিডওয়াইফ তামান্না বেগম দায়িত্ব পালন করছেন। এরপরও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশনায় তাঁরা স্বাভাবিক প্রসবকালীন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে প্রথমবারের মতো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সন্তান প্রসব হয়েছে। আজ বুধবার মা ও নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

ঘরের পাশে এমন সেবা পেয়ে মুগ্ধ কৃষক দুলন মিয়া। তিনি বলেন, ‘স্ত্রীর প্রসবকালীন অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাড়ির পাশে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন সেবা পেয়ে ভালো হয়েছে। গরিব মানুষ, টাকাপয়সা খরচ হয়নি। মা ও ছেলে সুস্থ আছে।’

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মধু সুধন ধর বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শত বছরের পুরোনো। সরকার গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। বুধরাইল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসীদের সহায়তায় সাম্প্রতিককালে বেশ উন্নয়নকাজ হয়েছে। এ কারণে নিয়মিত প্রসবসেবাসহ সার্বিক সেবার মান বেড়েছে।