পরিবারের সদস্যরা বলেন, ইয়াকুব প্রায় ৩০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে আসেন। এর কয়েক মাস পর তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাঁর চিকিৎসা করান। ২০১৭ সালের ৬ জুন এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে একা রওনা দেন। এরপর আর সেখানে পৌঁছাননি, বাড়িতেও ফেরেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে স্বজনেরা কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু পুলিশও তাঁর সন্ধান পায়নি।

স্বজনেরা বলেন, সম্প্রতি ফেসবুকে ‘অসহায় বাবা, সন্তানদের অবহেলা’ শিরোনামে ফেসবুকে এক ব্যক্তির ভিডিও ভাইরাল হয়। এটি নজরে পড়লে তাঁরা দেখেন, ওই ব্যক্তি হলেন ইয়াকুব। তাঁরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ভিডিওটির প্রকৃত পোস্টদাতার পরিচয় পাননি। এরপর তাঁরা ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিকে ইয়াকুব আলী উল্লেখ করে তাঁর সন্ধান পেলে তাঁদের দেওয়া ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ভিডিওটি দেখার পর স্বজনেরা থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চান।

ভাইরাল হওয়া ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে খালি গায়ে অসুস্থ অবস্থায় এক বৃদ্ধ বসে আছেন। এর পাশ দিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। লোকটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানটি কোথায়, সেটা ভিডিওতে বোঝা যাচ্ছে না।

কথা বলার একপর্যায়ে রায়হান বিছানার পাশে রাখা বাবার ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘আব্বু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের কারও মন ভালো নেই। অনেক জায়গায় খুঁজেছি, পাই না। তবে, আব্বু বেঁচে আছেন, এই বিশ্বাস আছে। ভিডিওর লোকটা আব্বুই। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, এলাকার লোকজন সবাই ভিডিওটা দেখেছেন। এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আব্বুকে ফিরে পেতে পুলিশ, সাংবাদিক, দেশের সব মানুষের সহযোগিতা চাই।’

ইয়াকুবের স্ত্রী কমলা বেগম বলেন, ‘আমার কিচ্ছু চাওয়া–পাওয়ার নাই। শুধু আল্লাহ যাতে মানুষটারে বাড়ি ফিরাইয়া দেন।’
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুছ ছালেক বলেন, স্বজনেরা ভিডিওটি তাঁদের দেখিয়েছেন। নিখোঁজ ইয়াকুবের সন্ধানে তাঁদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।