দখলি জমিতে কলেজ করার অভিযোগ, পরিবার নিয়ে অনশন
বরগুনার আমতলী উপজেলায় পৈতৃক ভিটে ও জমি দখলের অভিযোগ এনে তা উদ্ধারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন মা–ছেলেসহ তিনজন।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে আমতলী প্রেসক্লাবের সামনে এ আমরণ অনশন শুরু করেন তাঁরা। আমতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মজিবুর রহমানের আশ্বাসে দেড় ঘণ্টা পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অনশন ভাঙেন ওই তিনজন।
অনশনকারীরা হলেন উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মো. আবদুল মালেক বিশ্বাস, তাঁর মা মাহিনুর বেগম ও স্ত্রী কল্পনা বেগম।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের আলী হোসেন বিশ্বাস ২০০২ সালে ৬০ শতাংশ জমি রেখে মারা যান। উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির বর্তমান মালিক আলী হোসেনের স্ত্রী মাহিনুর বেগম ও তাঁর ছেলে আবদুল মালেক। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন আবদুল মালেক। এ সুযোগে হলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধা জাল দলিল করে ওই ভিটা ও জমি দখল করেন। এরপর ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর নামে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ওই পৈতৃক ভিটে ও জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার আমতলী প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশনে বসেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দখলকৃত জমি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা। অনশন শুরুর দেড় ঘণ্টা পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমানের এসে তাঁদের জমির ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর অনশন ভাঙেন তাঁরা।
আবদুল মালেক বিশ্বাস বলেন, ‘মোর সব জমি ভুয়া দলিল হইররা চেয়ারম্যান শহীদুল নিয়া গ্যাছে। ওই জমিতে মোর বাপ-দাদার ভিডা (ভিটে)। সব জমি নিয়া গ্যাছে। পোলাপান নিয়া এহন রাস্তায় থাহি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোর জমিজমা ফেরত চাই।’
জানতে চাইলে জমি দখল করে কলেজ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ এড়িয়ে যান শহীদুল ইসলাম মৃধা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মল্লিক ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে আমরণ অনশনে বসিয়েছেন ওদের।’
তবে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মল্লিক। তিনি বলেন, শহীদুল ইসলাম মৃধা জমি দখল করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই ভুক্তভোগীরা জমি উদ্ধারে অনশন করেছেন।
জানতে চাইলে বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।