নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কর্তন, স্বামী আটক
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মারুফা আক্তার (২৭) নামের এক নার্সের হাত–পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মদন পৌর সদরের বাড়িভাদেরা রোডে একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক আরিফুল ইসলামের (৩৫) বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। তিনি ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। অন্যদিকে আহত মারুফা আক্তারের বাবার বাড়ি মদন উপজেলায়। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স।
পুলিশ, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আরিফুল ও মারুফার বিয়ে হয়। প্রায় ছয় মাস আগে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগ দেন মারুফা। ওই দম্পতি পৌরসভার বাড়িভাদেরা রোডের ওই ভাড়া বাসায় ওঠেন। তাঁদের সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান আছে। কয়েক মাস ধরে আরিফুল ও মারুফার মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে আজ সকালে মারুফার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন আরিফুল।
পরে স্থানীয় লোকজন মারুফাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সেখান থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল থেকে পুলিশের হাতে আটকের আগে আরিফুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘মারুফা আমার সঙ্গে সব সময়ই বাজে আচরণ করত; দিন দিন আমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়েই যাচ্ছিল। এতে অতিষ্ঠ হয়ে রাগের মাথায় আমি তাঁকে আঘাত করেছি। এটা ঠিক হয়নি।’
মারুফা আক্তারের হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়াসহ শরীরে জখমের চিহ্ন আছে বলে জানান মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নূরুল হুদা খান। তিনি বলেন, মারুফাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আরিফুলকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, আরিফুলকে আপাতত থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী বা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।