ছোট্ট শিশুকে নিয়ে ঘুরছিলেন শহরের শিবরামপুর মহল্লার আসমাউল হুসনা। তিনি বলেন, ঘরে থাকতে থাকতে শিশুরা বিরক্ত হয়ে ওঠে। বিকেল হলে একটু বাইরে বের হয়ে চায়। কিন্তু শহরে শিশুদের নিয়ে বেড়ানোর কোনো জায়গা নেই। তাই এই পার্কে আসা। তবে এখানে পরিবেশটা খারাপ হয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশক আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘দুর্জয় পাবনা’ নির্মাণ করা হয়। দুর্জয় পাবনাকে কেন্দ্র করে জেলা পরিষদের উদ্যোগে শিশু পার্কটি নির্মাণ করা হয়। পার্কটিতে শিশুদের জন্য দুটি রাইড ও কিছু দোলনা স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে পার্কের পাশে একটি আধুনিক রেস্তোরাঁ করা হয়। জেলা শহরে শিশুদের জন্য আর কোনো পার্ক না থাকায় সব সময় এ পার্কে ভিড় লেগে থাকত।

নির্মাণের পর এ পার্কের কোনো সংস্কার করা হয়নি। দিনের পর দিন রাইডগুলো নষ্ট থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয় না। একপর্যায়ে জেলা পরিষদ থেকে পার্কটির দায়িত্ব নেয় জেলা প্রশাসন। তারাও কোনো সংস্কারকাজ করেনি। করোনার প্রকোপ বাড়ার পর ২০২০ সালে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্কটি। এতে ঝোপঝাড় জন্মাতে থাকে পার্কে। বাড়ে মাদকসেবীদের আনাগোনা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলার কারণেই পার্কটি এখন পুরো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সারা দিন বখাটেরা সেখানে এসে আড্ডা দিচ্ছে। সন্ধ্যা নামলে বসছে মাদকের আড্ডা। এতে পুরো পার্কের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।

শালগাড়িয়া মহল্লার রাসেল রহমান বলেন, এখানে শুধু পার্কই নয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন একটি স্থানে নেশাখোরেরা আড্ডা দেবে, বখাটেরা বসে ধূমপান করবে, এটা কীভাবে হয়?

জেলায় শিশু অধিকার সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলা ও উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণ প্রতিটি শিশুর অধিকার।

জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন,পার্কটি আগে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ছিল। পরবর্তী সময় জেলা প্রশাসন দায়িত্ব নেয়। কিছু জটিলতার কারণে পার্কটির জন্য বরাদ্দ নেওয়া যাচ্ছিল না। সে জটিলতা দূর হয়েছে। শিগগিরই পার্কটি সংস্কার করে আবার চালু করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন