নামী রেস্তোরাঁ–সুপারশপে পচা–বাসি খাবার, চার প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লাখ টাকা জরিমানা
কোথাও পচা–বাসি খাবার, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য। কোনো প্রতিষ্ঠানে আবার খাবার তৈরির কাঁচামালে পোকামাকড় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার প্রমাণ মিলেছে। চট্টগ্রাম নগরের চারটি বেকারি, খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, সুপারশপ ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়ম পেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
এসব অনিয়মের দায়ে চার প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। গতকাল শনিবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আজ রোববার সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা (নগর) মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম।
জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারি ১৯ লাখ টাকা, মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড ১০ লাখ টাকা, উৎসব সুপারশপ ১০ লাখ টাকা এবং রিও ক্যাফে–মাজায়দার ১ লাখ টাকা। জরিমানা অনাদায়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় পচা–বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সেগুলো আবার ব্যবহারের প্রস্তুতিও ছিল। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট পাওয়া যায়। এ ছাড়া স্যাঁতসেঁতে মেঝে, ভাঙা টাইলস ও অপরিচ্ছন্ন ড্রেনেজের ব্যবস্থা ছিল।
মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টসের কারখানার বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার বিচরণ দেখা যায়। ম্যাঙ্গো বার তৈরির কাঁচামাল পাল্পের ড্রামের ভেতরও পোকামাকড় পাওয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিমকি ও চিপস উৎপাদন করা হচ্ছিল।
উৎসব সুপারশপে মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস, নষ্ট মরিচ, বিভিন্ন মসলা ও চকলেট সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং নিম্ন মানের আচার ও হোমমেড পণ্য বিক্রির বিষয়ও ধরা পড়ে।
রিও ক্যাফে–মাজায়দারে পচা–বাসি খাবার সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রি এবং খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রমাণ পাওয়া যায়।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, সংক্ষিপ্ত বিচারকাজে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী আদালত ব্যবস্থা নিয়েছেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।