জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন

নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেনছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেনকে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাঁকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে রাত পৌনে ১০টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে রাশিদুল আলম বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় রয়েছেন। পরে কথা বলবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য হন মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তখন প্রক্টরের দায়িত্ব পান পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশিদুল আলম। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরদিনই প্রক্টর কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগের নেতা শামীম মোল্লাকে বেধড়ক মারধর করেন একদল শিক্ষার্থী। পরে তিনি মারাও যান। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। জাকসু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক রাশিদুল আলমের বিরুদ্ধে একপেশে আচরণের অভিযোগ তোলেন বিএনপিপন্থী কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। বামপন্থী শিক্ষার্থীদের একটি অংশও তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।

এ ছাড়া গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হলসংলগ্ন সড়ক থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকার জায়গায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ১৭ মে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে। পরে একই ভবনের সিনেট হলে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন প্রক্টর।

এদিকে গত সোমবার কোনোরকম পূর্ব অবগতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পরদিনই প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র বলছে, কোষাধ্যক্ষ আবদুর রবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর প্রশাসনের ভেতরে চাপ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টরের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এসেছে।