গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রামগতির চরগজারিয়া, চররমিজ, বড়খেড়ি, চরআলগী, বালুর চর, কমলনগরের লুধুয়া, মতির হাট, ফলকন, নাসিরগঞ্জ, রায়পুরের চরকাচিয়া, কানিবগার চর, চরইন্দুরিয়া, চরজালিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি বেড়েছে। আউশ ধান, আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজির খেতসহ কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অনেক খামারের মাছ। এসব এলাকার অধিকাংশ হাটবাজার, বসতঘর ও উঠানে পানি থই-থই করছে। আজ শনিবার দুপুরেও ওই সব এলাকায় পানি ছিল। ভোগান্তিতে পড়েছে অর্ধলাখের বেশি মানুষ।

আগে এলাকাগুলো জোয়ারে প্লাবিত হলে এক থেকে দুই ফুট পানির উচ্চতা হতো। কিন্তু এবার তিন থেকে চার ফুট পানি হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, মেঘনার তীরবর্তী এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের অতিরিক্ত পানি খুব সহজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে নদীভাঙনসহ উপকূলীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সময় কমলনগর উপজেলার কালকিনি, সাহেবেরহাট, পাটারীর হাট, চর ফলকন, চর মার্টিন, চর লরেঞ্চ ইউনিয়ন এবং রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, বড়খেরী, চরগাজী, চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে।

কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা কুলছুমা আক্তার জানান, জোয়ারের পানিতে তাঁদের রান্নার চুলা তলিয়ে গেছে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে শিশুসন্তান ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সহেল বলেন, রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর আবদুল্যা ইউনিয়নের পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বড়খেরী, চরগাজী, চর আলেকজান্ডারসহ কয়েকটি ইউনিয়ন জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আগে এলাকাগুলো জোয়ারে প্লাবিত হলে এক থেকে দুই ফুট পানির উচ্চতা হতো। কিন্তু এবার তিন থেকে চার ফুট পানি হয়েছে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম শান্তুনু চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকেছে। ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন