চাঁদা দাবি করে ছাত্রদল নেতা বললেন, ‘হোলাহাইনের চা–নাশতার টেয়া’

ফেনী কলেজ ছাত্রদলের বহিষ্কার হওয়া সভাপতি নোমানুল হকছবি: সংগৃহীত

এক মাটি ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবির অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ফেনী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন।

এর আগে গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোমানুল হকের সঙ্গে শহরের নাসির মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহাদের কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়। ইফতেখার আহাদ ফেনীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহনের জন্য আহাদের কাছে নোমান ১৬ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের অডিও কথোপকথনে নোমানের কাছে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের ইলাশপুর সড়ক দিয়ে মাটি পরিবহনের অনুমতি চান আহাদ। সাত দিন মাটি পরিবহনের জন্য ১৬ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান ফেনী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হক।

অডিওতে নোমানকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা সিনিয়রদের সিদ্ধান্ত।’ টাকা না দিলে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়ার ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। জবাবে আহাদ বলেন, ‘নিজ দলের লোক হয়ে টাকা দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, এটা লজ্জার।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে আহাদ প্রশ্ন করেন কেন চাঁদা দিতে হবে, জবাবে বিরক্তি প্রকাশ করে নোমানুল হক বলেন, রোজা রেখে এত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না তিনি। তখন আহাদ জানতে চান, রোজা রেখে চাঁদাবাজি করলে তাঁর রোজা কবুল হবে কি না।

একপর্যায়ে নোমান ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, এসব ‘হোলাহাইনের (ছেলেদের) চা-নাশতার টেয়া।’ তিনি রাত ১০টার পর মাটির গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেন।

অডিও ভাইরাল হওয়ার পর গতকাল রাতেই ছাত্রদল নেতা নোমানুল হককে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফেনী জেলা শাখার অধীন ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নোমানুল হককে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান ভূঁইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের গতিশীলতা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোমানুল হক নোমান বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। আমি চাঁদা দাবি করিনি। এলাকার কিছু ছেলে একটি মাটির গাড়ি আটক করলে আমি বিষয়টি সমাধান করি। পরে আহাদ নিজেই আমাকে কল করে ব্যবসা চালানোর জন্য টাকা দিতে চান। আমি শুধু স্থানীয়দের চাহিদার কথা বলেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন বলেন, ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় কলেজ ছাত্রদল সভাপতিকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা ছাত্রদল এ বিষয়ে অবগত আছে। একই সঙ্গে সহসভাপতিকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতারা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’