আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মো. মাইন উদ্দিন (৬৫) ও কাসেম বেপারী (৬০)। তাঁরা দুজন হত্যার শিকার সুলতান উদ্দিনের (৫৫) ভাই। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন দুলাল উদ্দিন (৫০), আ. মান্নান (৫৫), মাইন উদ্দিন (৬০), সিরাজুল ইসলাম (৬০) ও মো. আজিজুল হক (৬০)। বেকসুর খালাস পেয়েছেন মো. গিয়াস উদ্দিন (৬০)।
নিহত সুলতান উদ্দিন (৫৫) শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালা এলাকার ধনাই বেপারীর ছেলে।

১৯৯৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বাবা হত্যার সময় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাহাদুরের বয়স ছিল ছয় বছর। পরে তিনি বাদীপক্ষের আইনজীবী হয়ে মামলা পরিচালনা করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নিহত সুলতান উদ্দিনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাহাদুর। বাবা হত্যার সময় তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর। হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, জমিজমা নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে আসামিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। ১৯৯৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে সুলতান উদ্দিন ঘরে বসে তাঁর ভাই মোতাহার হোসেন ও প্রতিবেশী মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ করছিলেন। সে সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রসহ আসামিরা লোকজন নিয়ে ওই ঘরের খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকেন। তাঁরা সুলতান উদ্দিনকে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে ঘটনাস্থলেই হত্যা করেন। এ সময় সুলতানের চিৎকার শুনে তাঁর দুই ছেলে মোবারক হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ এগিয়ে এলে তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করেন আসামিরা। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে আসামিরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যান।

পরের দিন নিহত সুলতান উদ্দিনের ভাই মো. মোতাহার হোসেন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ১৯৯৭ সালে গাজীপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি ও ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আসামিদের উপস্থিতিতে এই মামলার রায় দেন আদালত।