ময়মনসিংহে ধানের শীষের পক্ষে ‘কাজ না করায়’ সাবেক এমপির গাড়ি ভাঙচুর
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল বাশার আকন্দের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও চালককে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফুলপুর উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় হামলার এ ঘটনা ঘটে। নির্বাচনে আবুল বাশার ধানের শীষের পক্ষে কাজ না করায় এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-২ আসনে এবার বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। নির্বাচিত হন ১১–দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ। তিনি পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট। আসনটিতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন আবুল বাশার আকন্দ। তিনি ফুলপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি।
স্থানীয় বিএনপি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে উপজেলার বালিয়া মোড় এলাকায় তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চারটার পর সেখানে যান আবুল বাশার আকন্দ। এ সময় তাঁর গাড়িবহরে একটি দল হামলা চালিয়ে গাড়ির চারপাশের কাচ ভাঙচুর করে। এ সময় চালক মো. আরমান আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে আবুল বাশারকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে হালুয়াঘাট-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বিএনপির একটি পক্ষের সঙ্গে বাশার আকন্দের পক্ষের লোকজনের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
স্থানীয় একজন বিএনপি নেতা জানান, এবারের নির্বাচনে আবুল বাশার আকন্দ বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তা না পাওয়ায় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় কোনো ভূমিকা রাখেননি। নিজেও কাজ করেননি, তাঁর পক্ষের নেতা–কর্মীদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজও করতে দেননি। ধানের শীষের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে আবুল বাশারকে ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুই দিন ধরে ফেসবুকেও এ নিয়ে লেখালেখি হচ্ছিল।
আবুল বাশার বলেন, ‘তুলার গোগাউন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি দেখতে যাই আমি। রাস্তায় আমার গাড়ি ও ড্রাইভার ছিল। ওই সময় মিঠুন (ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন) ও পল্লব (এমরান হাসান পল্লব) হামলা করেছে। তারা দুজন বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতি করে। আমার গাড়ির চালক মো. আরমান আহত হয়েছে, গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। তারা কী কারণে আমার গাড়িতে হামলা করেছে, তা জানি না।’
অভিযোগের বিষয়ে উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেননি; বরং রিকশার পক্ষে (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) কাজ করেছেন। সে কারণে লোকজন ক্ষুব্ধ ছিল। পোলাপানে গাড়ি ভাঙচুর করলে আমি গিয়ে ফিরাই। তিনি আমাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করেছেন। তিনি (সাবেক এমপি) অনেক অন্যায় করেছেন, অনিয়ম করেছেন দলের সঙ্গে। বিএনপির পক্ষে কাজ না করায় হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি ব্যক্তি আক্রোশে আমার নাম বলছেন।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ‘আমি শুনেছি, ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থীর কতিপয় লোকজন এই হামলা করে। পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তখন পুলিশ গাড়িসহ সেখান থেকে চলে আসতে চাইলে রাস্তা কিছুক্ষণ বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়াধাওয়ি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরে গাড়িসহ সাবেক এমপিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’