চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকার। আজ শনিবার সকালে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এই আসনটিতে পাঁচজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিএনপির দুই প্রার্থী ছাড়া বাকি তিনজনের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহজাহান মঞ্জু, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী ও গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার।
চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, সাধারণত কোনো দল একজনকে প্রার্থী করে থাকে। তবে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নে দুজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাঁদের দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বশির আহমেদ আরও বলেন, যেহেতু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় রয়েছে, হয়তো এর আগেই একজন প্রত্যাহার করবেন। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন কমিশনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা পাঠানো হবে। তখন সেই তালিকার আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ৪ ডিসেম্বর গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই আসনে গত ২৮ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেয় দল।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একই দিনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেন। আইন অনুযায়ী প্রথমটি বাছাই করে গ্রহণ করা হয়েছে। পরেরটি আর বাছাই করা হয়নি।
চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির রাজনীতিতে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারকে ঘিরে নেতা-কর্মীরা বিভক্ত। এই দুজনের মধ্যে কোন্দলে প্রায়ই সংঘর্ষ-হানাহানির ঘটনা ঘটে আসছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় আছে। দলের সিদ্ধান্ত যা–ই হোক, মাঠ আমি ছাড়ছি না। দল একজনকে তুলে ধরে, তবে মাঝেমধে৵ রাজনৈতিক কারণে কাউকে সান্ত্বনা দিতে হয়।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, ‘রাউজানে সহিংসতাগুলো হচ্ছে চাঁদাবাজি, বালু ব্যবসা ইত্যাদি কারণে। এমন না যে দলের দুই পক্ষ, তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এসব হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। মনোনয়নপত্র বাছাই গত ৩০ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে। চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে পরদিন ২১ জানুয়ারি। ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা; চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।