নিহত নয়নের বড় মামা বেদন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে লাশ বাড়ি পর্যন্ত আনতে গিয়ে জায়গায় জায়গায় বাধা পেয়েছি। ময়নাতদন্তের পর লাশ পেতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে দেরি হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা আসার পর গতকাল মাগরিবের পর লাশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় প্রথম জানাজার পর লাশ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ফেরিঘাটে পৌঁছাই। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাশ নিয়ে আমাদের ফেরিতে উঠতে দেননি। উপায় না পেয়ে নৌকার মধ্যে নিচে লাশ রেখেই গ্রামে এসেছি। গতকাল রাতে গ্রামের ঈদগাহ মাঠে নয়নের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১১টার দিকে চরশিবপুর গ্রামের কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ওই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাঞ্ছারামপুরের পুলিশ ভালো বলতে পারবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আড়াইহাজার ফেরিঘাট নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত হলেও সেখানে কি বাঞ্ছারামপুরের পুলিশ আসতে পারে না? আর এ বিষয়ে আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করছেন?’

মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়নি
নয়ন মিয়া (২২) নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে সংঘর্ষে পুলিশ আহতের ঘটনায় উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০-১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে সংঘর্ষের পর রাতে বাঞ্ছারামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন বাদী হয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের ১৭ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (৪২) ও ছাত্রদল কর্মী সাইদুর রহমানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে নয়নের মামা বেদন মিয়া বলেন, বিষয়টি এখন দলীয় পর্যায়ে চলে গেছে। মামলার বিষয়ে দলই সিদ্ধান্ত নেবে।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রদল নেতা নয়নের লাশ দাফন করেছি। মামলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করব। দলের বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’