চব্বিশের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালানো দুজন গ্রেপ্তার, এখনো পলাতক ৩৯
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর পালিয়ে যাওয়া ৮৭ বন্দীর মধ্যে দুজনকে দুই বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের মোজাম গাজী (৪৯) ও আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেকি গ্রামের রফিকুল ইসলাম গাজী (৩৮)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই দুই পলাতক বন্দীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পালানোর পর তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য পলাতক বন্দীদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, মোজাম গাজী চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সাতক্ষীরা কারাগারে ছিলেন। তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কারাগার থেকে পালানোর পর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হয়।
পলাতক ৩৯ বন্দীর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা কোথায় আছেন এবং কার সহযোগিতায় আত্মগোপনে রয়েছেন, সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা
রফিকুল ইসলাম গাজীও চেক ডিজঅনারের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁকে ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে ৫৯৬ জন বন্দী ছিলেন জানিয়ে জেলার মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন সরকার পতনের পর সন্ধ্যায় কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কারাগারের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন বন্দিশালার ফটক ভেঙে দেওয়া হলে অনেক বন্দী বেরিয়ে যান।
পরে ওই রাত ও পরদিন অনেকে কারাগারে ফিরে আসেন। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত যাঁরা ফেরেননি, তাঁদের মধ্যে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে কারাগার ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও গুরুতর অপরাধের মামলার আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বা অশান্তি তৈরির আশঙ্কা আছে।মাধব দত্ত, মানবাধিকারকর্মী
জেলার বলেন, ওই ৮৭ জনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৪৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ফিরেছেন। এখনো পলাতক ৩৯ জনের তালিকা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক ৩৯ বন্দীর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরের সাহেব আলী ও ভাড়ুখালীর শাহাদাৎ হোসেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তালার আসমা বেগম ও আমিরুল ইসলাম, কলারোয়ার আবদুল আলিম এবং শ্যামনগরের শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় বন্দী ছিলেন। অন্যরা মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, মারপিটসহ বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও গুরুতর অপরাধের মামলার আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বা অশান্তি তৈরির আশঙ্কা আছে বলে জানান সাতক্ষীরার মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত। তিনি বলেন, কোনো আসামি পলাতক থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, পলাতক ৩৯ বন্দীর অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁরা কোথায় আছেন এবং কার সহযোগিতায় আত্মগোপনে রয়েছেন, সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। আইনের হাত থেকে পলাতক বন্দীদের পার পাওয়ার সুযোগ নেই।