বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষককে মারধর: বিএনপি-ছাত্রদলের ৮ জনের নামে মামলা
সাতক্ষীরার একটি বিদ্যালয়ে ঢুকে সহকারী এক শিক্ষককে মারধর করে বাজারে ঘোরানোর অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির ও ছাত্রদলের আট নেতা-কর্মীসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল রোববার রাতে মামলাটি করেন।
শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আজ সোমবার বেলা একটার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান (৩০), বল্লী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসলাম কবিরাজ (৫০), বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম আক্তার (৫০), সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি (৬০), সাতক্ষীরা সদর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান (২৮), বল্লী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান (৩০), বল্লী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম (৪৫) ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আবদুর রইপ (৪৫)।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিনুল হক। তিনি বলেন, রাতেই আসামিদের ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম আজারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শিক্ষক প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন, বল্লী নতুন বাজার কমিটির সভাপতি চিকিৎসক অলিউর রহমান, কলেজশিক্ষক শামসুর রহমান, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রশনি আক্তার, নবম শ্রেণির ছাত্রী রোকসান আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বিএনপির একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তারা শিক্ষকদের নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মহলটি শিক্ষকদের ওপর যে আচরণ করছে, তাতে শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ে ঢুকে রোববার শিক্ষক শফিকুর রহমানকে মারধর করে বাজার ঘুরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখে।
মামলায় ভুক্তভোগী শিক্ষক শফিকুর রহমান উল্লেখ করেছেন, রোববার আটটার দিকে বিদ্যালয়ে এসে তিনি বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয় কক্ষে অতিরিক্ত ক্লাস নেন। পরে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আসামিরা হাতে রড, হাতুড়ি, জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের অফিসকক্ষে ঢুকে তাঁকে (শফিকুর রহমান) মারধর করা শুরু করেন এবং সাংবাদিক দিয়ে ছবি তুলতে থাকেন। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে মারধর করতে করতে পাশের বাজারে ঘোরান। একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে তাঁকে আটকে রাখা হয়। পরে অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন।
তবে বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণির দাবি, বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমান একজন নৈতিকতাহীন মানুষ। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কাজের অভিযোগ ওঠে। একটি অভিযোগের তদন্তও চলছে। আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় তিনি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ কয়েকজন বিদ্যালয়ে যান। একপর্যায়ে জনরোষ সৃষ্টি হয়। জনরোষ ঠেকানোর চেষ্টা করেও কাজ হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কিছু করার ছিল না।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম আক্তার মুঠোফোনে বলেন, রোববার সকালের দিকে ওই বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন তিনি।